অর্থ ও মানবপাচার মামলায় বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সাত বছর কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন কুয়েতের সর্বোচ্চ আদালত। আর এ রায়ের মাধ্যমে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি টেনেছে দেশটির সর্বোচ্চ আপিল আদালত।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৭ লাখ ‍কুয়েতি দিনার (প্রায় সাড়ে ৭৬ কোটি টাকা) জরিমানাও করা হয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, সাজা ভোগ করার পর পাপুলকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। খবর গালফ নিউজের। 

এর আগে অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হন। ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত। দুই পক্ষের আপিলের পর পাপুলের সেই সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করেছিল দেশটির উচ্চ আদালত।

এছাড়া একই মামলায় কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল জাররাহ এবং জনশক্তি পরিচালক হাসান আল খেদরকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কুয়েতের সরকারি এই দুই কর্মকর্তাকে তাদের পদ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলায় কুয়েতের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ খুরশিদকেও সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ৭ লাখ ৪০ হাজার কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে। 

নিজের একটি কোম্পানির মাধ্যমে কুয়েতের সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে কুয়েতে শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ পাপুলের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশি কয়েক ডজন শ্রমিককে অবৈধভাবে কুয়েতে পাঠানোর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের এই সাবেক এমপি।

বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার এবং সাজার কারণে পদ বাতিলেরও এটাই প্রথম ঘটনা। কারণে বিদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর পাপুলের সংসদ সদস্য পদও বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন:

কুয়েতে এমপি পাপুলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত তুমুল আলোচনায় এমপি পাপুল

পাপুল দম্পতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করছে দুদক

এমপি পদ হারালেন পাপুল

পাপুল দম্পতিসহ চারজনের ৬১৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন

মানব পাচারের টাকা পাপুল ও তার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে