গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের চলাচলে অর্ধেক ভাড়া নিলে চালক-মালিকদের অসুবিধা কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

অর্ধেক ভাড়া নিলে বাস মালিকরা ‘লোকসানে পড়বেন’ বলে যে দাবি জানাচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিতো না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা। একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী থাকে সেখানে দু-তিন-পাঁচজন  ছাত্র থাকে এবং এতে বাস মালিকদের কি অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধির পর দেশে ডিজেলচালিত গণপরিবহনের ভাড়াও আরেক দফা বাড়ানো হয়। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে বাস চালক ও হেলপাররা নারাজি জানালে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করছেন, কোথাও তারা বাস ভাংচুরও করেছেন। এরই মধ্যে 

রাজধানীতে একটি বাসের হেলপার ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যুতে তর্কের সময় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণের হুমকি’ দিলে সে বিক্ষোভ আরও গতি পায়। 

ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

রোববারের অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসির ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করবো, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’