গাইবান্ধায় মোবাইলফোনে ডেকে এনে গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মা ও মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার গাইবান্ধার নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো.আব্দুর রহমান এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে পাঁচ আসামি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলো- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন, একই গ্রামের বদিউজ্জামান মিয়ার ছেলে এমদাদুল হক ও পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর পার্বতীপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে খাজা মিয়া। 

এছাড়া মামলায় দুই আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন- একই উপজেলার সাতগাছি হাতিয়াদহ গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে আজিজুল ইসলাম ও সুন্দাইল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১২ মে আসামিরা ফোনে নিজেদের জ্বিনের বাদশাহ পরিচয় দিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ওই মা-মেয়েকে গুপ্তধন পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখান এবং তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডেকে আনেন। লোভে পড়ে ভুক্তভোগী মা-মেয়ে ওই রাতেই গোবিন্দগঞ্জে চলে আসে। পরে প্রতারক চক্রটি মা-মেয়েকে উপজেলার আমনাথপুর বালুয়ার নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে পুলিশ সেসময় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণের পর মঙ্গলবার বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহন জানান, ২০১৮ সালের ১২মে মা-মেয়েকে গুপ্তধন দেওয়ার কথা বলে জামালপুর জেলা থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডেকে আনে আসামিরা। পরে তাদের উপজেলার আমনাথপুর বালুয়া এলাকায় নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।