দিনাজপুরের আলোচিত যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনকে অর্থ পাচার মামলায় জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি আদালতেও উপস্থাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে অর্থ পাচার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থায়ীভাবে জামিন নিতে এলে বিচারক বিএম তারিকুল কবির তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মোহাম্মদ তোহা বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে মামলায় হাইকোর্টের জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল লিভ টু আপিল করেছেন। আপিলেট কোর্টের বিচারক চেম্বার জজ ওবায়দুর রহমান লিভ টু আপিল নামঞ্জুর করেছেন এবং ৫ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেছেন। পাশাপাশি আসামিকে ধার্য তারিখের সাত দিনের মধ্যে দিনাজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ তোহা বলেন, সে অনুযায়ী আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির পর আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, আসামির দেশে ১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া ওমানের মাসকাটের সিটি ব্যাংকেও একটি অ্যাকাউন্ট আছে।

এদিকে দিনাজপুর আদালত পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, মিল্টনের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা বিচারাধীন। প্রতারণার পাশাপাশি তিনি আয়বহির্ভূতভাবে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৫ টাকা অর্জন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কোর্ট পুলিশ যথাযথ যুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক এজাহার পর্যালোচনাক্রমে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় এ মামলা করেন দিনাজপুর সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক রোকনুজ্জামান (মামলা নং-৩৮)।

অভিযুক্ত খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সহসম্পাদক। তার বাবা খানসামা উপজেলার পূর্ববাসুলী গ্রামের হাবিবুলল্গাহ আজাদ একজন তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধী। ২০২০ সালের ২১ জুলাই উপস্থাপিত খানসামা উপজেলার রাজাকারদের তালিকার ৯ নম্বরে তার নাম রয়েছে। অর্থ পাচারের মামলায় মিল্টনের মাকেও আসামি করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সহসম্পাদক মিল্টনের বিরুদ্ধে বালুমহল ইজারা নিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, সরকারী কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখানো ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা এবং পাঁচটি জিডি রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর তাকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।