ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

জলবায়ু তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ধনী দেশগুলোর

জলবায়ু তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ধনী দেশগুলোর

.

আবু সালেহ রনি, দুবাই থেকে

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০১:০৪ | আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৫:৩৪

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জিওগ্রাফির একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, প্রবল গরম ও খরার মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ। প্রবল উষ্ণায়ন ও স্থলভাগে পানির সংকটে পৃথিবীজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১০ গুণ বাড়বে। কার্বন নিঃসরণও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। এতে অর্থনীতিও প্রভাবিত হবে। ধনীরা আরও ধনী হবে এবং গরিব হবে আরও গরিব। এমন প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ধনী দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

গতকাল সোমবার ছিল সম্মেলনের পঞ্চম দিন। গত চার দিনে দুবাইয়ে জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২৮) তহবিলে ৫৭ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কপের প্রেসিডেন্ট ড. সুলতান আল জাবের। ক্ষতিপূরণ দাবিতে জলবায়ু সম্মেলনে গতকাল বিক্ষোভ করেন দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকরা।

এদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার জন্য বিশ্বের সব দেশকে বাস্তবসম্মত জাতীয় লক্ষ্য (এনডিসি) নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে তহবিলের জন্য প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধেরও দাবি জানিয়েছেন। গতকাল জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইক্যুইটিবিডির পরিচালক আমিনুল হক। তিনি দাবি তোলেন উন্নত দেশগুলোকে ১.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দেশগুলোকে অবশ্যই ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ক্রমবর্ধিত বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
এশিয়া প্যাসিফিক মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) প্রেসিডেন্ট লিডি ন্যাকপিল বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা এবং এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে ধনী দেশগুলো। তাদের অবশ্যই বেসরকারি খাতের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা বন্ধ করতে হবে।

এওএসইডির নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফিন বলেন, দরিদ্রদের জন্য ব্যয় করার ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) সিও সামাহ হাদিদ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির তীব্রতা এবং এসব অঞ্চলে অর্থায়ন সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এদিকে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এক দিনের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন করা হয়। বিশেষ স্বাস্থ্য দিবসে দুবাইয়ের আকাশ অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়াশায় ঢাকা ছিল। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল আমন্ত্রিত প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো দায় এড়াতে পারে না।

এর আগে মন্ত্রী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আয়োজিত ‘লঞ্চ অব এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট  ব্যাংক এলইডি ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক গোলটেবিলে এবং বিকেলে ক্লাইমেট হেলথ মিনিস্টারিয়াল প্রোগ্রামে অংশ নেন। মিনিস্টারিয়াল প্রোগ্রামে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তিনটি  সুপারিশ দেন। সুপারিশগুলো হলো– জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানানসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতার ওপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশে সৌরসেচের মাপকাঠি উন্নয়ন রোডম্যাপ উন্মোচন
জলবায়ু  সম্মেলনে বাংলাদেশে সৌরসেচের মাপকাঠি (২০২৩-২০৩১) রোডম্যাপ উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে রোডম্যাপ উন্মোচন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাসটেইনেবল এনার্জি এক্সপার্ট সিদ্দিক জোবায়ের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে ১০ থেকে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। তা ছাড়া বায়ুবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
সবুজ অর্থায়নে ট্রিলিয়ন দিরহামের প্রতিশ্রুতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যাংক ফেডারেশন সবুজ অর্থায়নে ১ ট্রিলিয়ন দিরহাম অর্থাৎ ২৭০ বিলিয়ন ডলার জোগাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউএই ব্যাংকস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ আল ঘুরাইর বলেন, এই তহবিল কৃষকদের মাটির গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করাসহ জলবায়ু সুরক্ষায় সবুজ অর্থায়নে ব্যয় হবে।

আরও পড়ুন

×