মানিকগঞ্জে এনজিও চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহিদ হত্যা মামলার রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা; অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য এ রায় দেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, ঢাকার ধামরাই উপজেলার গোয়ারীপাড়া গ্রামের মৃত আহসান উদ্দিনের ছেলে মো. শাহিন আলম (৪০)। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, টাঙ্গাইলের থানাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম স্বাধীনের ছেলে সাহেদ (৪০), নাগরপুর উপজেলার দোয়াজানী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রাজা মিয়া ওরফে রাজা (৪০), উপজেলার বাবনাপাড়া গ্রামের সামসুল হক বেপারীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৩) ও টাঙ্গাইলের সুইপার কলোনীর মিহির লালের ছেলে বিঞ্চু সুইপার (৪০)।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন আলম ও নিহত শহিদুল ইসলাম মিলে প্রিয়বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শহিদুল ছিলেন এনজিও চেয়ারম্যান এবং শাহিন আলম ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এনজিওতে অপর একটি সংস্থা থেকে ১০ লাখ টাকার ফান্ড পাওয়া যায়। এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য শাহিন ও ওই এনজিওর কয়েক কর্মী মিলে শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরে ২০০৬ সালের ২০ মে শহিদকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকায় নিয়ে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে শহিদুলের মাথা ফেলে রাখা হয়।

পর দিন ২২ মে খবর পেয়ে পুলিশ পৃথক স্থান থেকে মাথা ও দেহ উদ্ধার করে এবং অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে স্বজনরা মর্গে শহিদুলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিন আলম, এনজিও কর্মী সাহেদ, রাজা, আব্দুল কুদ্দুস, বিঞ্চু সুইপার, রহম আলী ড্রাইভার ও সেলিমকে আসামি করে মামলা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ে রহম আলী ড্রাইভার ও সেলিম ওরফে তেল সেলিমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিনসহ তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুধুর নাথ সরকার। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অরবিন্দ পোদ্দার ও দেওয়ান মিজানুর রহমান।