রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় এক শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত ঘটনা- এমন প্রশ্ন তুলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঘটনার ১২-১৫ মিনিটের মধ্যে কীভাবে সেখান থেকে একটি ফেসবুক পেজে লাইভে প্রচার ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটল? যারাই এ ঘটনা ঘটাক না কেন, তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি বিশেষ মহল ছাত্র আন্দোলনের ওপর ভর করে ছাত্রদের গায়ে কালিমা লেপন করছে।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ছাত্ররা হাফ ভাড়ার দাবিতে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বিআরটিসি বাসে হাফ ভাড়া আজকে থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা বাস মালিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছে তারাও ঢাকায় হাফ ভাড়া কার্যকর করবেন। এরই মাঝে গত সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাপায় একজন ছাত্র দুঃখজনকভাবে নিহত হয়েছে, তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, ছাত্ররা অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছে, কিন্তু গাড়িতে আগুন দেয় নাই। এমনকি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে নাই। অথচ রামপুরার দুর্ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই ১২ থেকে ১৫টি বাসে আগুন দেওয়া হলো। কারণ, ঘটনার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে এত ছাত্র সেখানে পৌঁছায়নি। এ ঘটনা ফেজবুক পেজে লাইভ দেওয়া হয়েছে। তাহলে যারা লাইভ দিয়েছে, তারা ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকেই কি অবহিত ছিল? যারা অতীতে কিছুর ওপর ভর করে দেশে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চালিয়েছে, তারাই ছাত্রদের ওপর ভর করে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টাতেই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। সুতরাং এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে। তার ১২ মিনিট পর নিরাপদ সড়ক চাই তাদের ফেসবুক পেজে সেখান থেকে লাইভ করে। রাত ১১টায় জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত 'টেলিগ্রাম' চ্যানেলে খবরটি প্রচারিত হয়। সেখান থেকে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় মারা যায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম (১৭)। সে রামপুরার একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফলের অপেক্ষায় ছিল। মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ১২টি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে সেখানে বেশিরভাগ জায়গায় নৌকার প্রার্থীই জয়লাভ করেছে। দ্বিতীয়স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছে। বিএনপিও অংশ নিয়েছে, কৌশলে দলীয় প্রতীক না দিয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে এবং জাতীয় পার্টিও অংশ নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে তাদের সাফল্য নেই বললেই চলে।