বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ডিএনসিসির পক্ষে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ও চীনের চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ওয়াং পেংফেই চুক্তিতে সই করেন।

ডিএনসিসির আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্লান্টের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্যের প্রয়োজন হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তির মাধ্যমে দেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ইনসিনারেশন পদ্ধতি অর্থাৎ বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে তা সরবরাহ করলে শহরে ময়লার সমস্যা থাকবে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কার্যক্রম শুরুর ১৮ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে চীনা কোম্পানি। চীনা কোম্পানিই প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় জমি দেবে ও নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করবে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের সকল সিটি করপোরেশন, জেলা শহর এমনকি পৌরসভাগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান আছে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য ডিএনসিসি আমিনবাজার এলাকায় ৩০ একর জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। প্রকল্পটিতে কাঁচামাল হিসেবে কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করার ফলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সুস্থ পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য সহায়ক হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।