ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘শতবর্ষ স্মৃতিস্তম্ভ’ নকশা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এই প্রতিযোগিতায় দেশের স্বনামধন্য ৫৬টি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ‘নিন আর্কিটেক্টস’ বিজয়ী হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানসহ আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

কনস্ট্রাকশন অব সেঞ্চুরি মনুমেন্ট: সেলিব্রিটিং হানড্রেড ইয়ারস অব দ্য ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা অ্যান্ড গোল্ডেন জুবিলি অব ইনডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের (আইএবি) সভাপতি স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে 'শতবার্ষিক স্মৃতিস্তম্ভ' (সেন্টিনারি মনুমেন্ট), 'এ মনুমেন্ট অব ইনফিনিটি রিফ্লেক্টিং ভাস্টনেস, ইনক্লুসিভ অ্যান্ড ম্যাগনানিমিটি' (অসীমতার স্তম্ভে বিশালতা, অন্তর্ভুক্তি ও উদারতা) তৈরি করা হবে। এজন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইএবি যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষায়িত জুরি বোর্ডের মাধ্যমে স্থাপত্য নকশাটি নির্বাচন করা হয়েছে। এটি হচ্ছে শতবর্ষের একটি উদ্ভাবন।

মনুমেন্টের বেদির আয়তন সাত হাজার ২০০ বর্গফুট (দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৬০ ফুট), মনুমেন্টের দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট, প্রস্থ ৩০ ফুট এবং উচ্চতা ২৫ ফুট, এর ওয়াটার গার্ডেনের ব্যাস ৬০ ফুট ও গভীরতা ৫ ফুট। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবান্বিত শতবর্ষের প্রকাশ হিসেবে ১০০টি বাতি থাকবে এবং ২০টি 'হিস্ট্রি প্যানেল' নির্মাণ করা হবে। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, সাইকেল স্ট্যান্ড, রিসাইকেল বিন, চার্জিং পয়েন্টসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। মনুমেন্ট নির্মাণের জন্য মল চত্বর এলাকার গাছপালা ঠিক রেখে পেভমেন্ট, রোড, ড্রেন ও বৈদ্যুতিক কাজ সম্পন্ন করা হবে।