বিতর্কিত মন্তব্য ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তুমুল সমালোচনার মুখে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট হয়েছে হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। রিটে জামালপুর-৪ আসনের মুরাদ হাসানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তও চাওয়া হয়েছে।

বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের কারণে মুরাদ সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর কিছু অডিও-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগের দাবি তোলে বিএনপি। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই একটি ফোন আলাপের অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেশের একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে মুরাদ হাসানের অশালীন ভাষায় কথা বলতে এবং তাকে হুমকি দিতে শোনা যায়। ওই ফোন রেকর্ডে মুরাদ হাসান একজন চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। না গেলে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তুলে নেয়ার হুমকি দেন। 

এর আগে আরও একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও করেন আপত্তিকর মন্তব্য। এসব ঘটনায় ঘরে-বাইরে সব জায়গায় অবস্থান হারান তিনি। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে না পারলেও সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। এ ঘটনায় বিএনপিসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা ডা. মুরাদের পদত্যাগ দাবি করেন।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মঙ্গলবার ই-মেইলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য পদত্যাগপত্র পাঠান। তবে অনলাইনে পাঠানো পদত্যাগপত্রটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গৃহীত হয়নি। এরপর ডা. মুরাদ হাসান চট্রগাম থেকে ঢাকায় এসে পদত্যাগপত্রে নিজ হাতে স্বাক্ষর করে পাঠান। 

এদিকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক পদ থেকে ডা. মুরাদ হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক জরুরি সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডা. মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য।  তার বাবা প্রয়াত মতিউর রহমান তালুকদার জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এর আগে ডা. মুরাদকে ২০১৯ সালের ১৯ মে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।