ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা-সংকট-সমাধান নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে 'দি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি' এ সভার আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান। পরে তিনি টাউনহল মাঠে এক নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন। এতে ময়মনসিংহের শিল্প ও নারী উদ্যোক্তারা নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। শুরুতেই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মো. আমিনুল হক শামীম বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।

উদ্যোক্তা ইমরান উমর বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে যাতে ব্যবসায়ীরা প্রাধান্য পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা শিল্পাঞ্চল করার দাবি জানান তিনি।

রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ বলেন, নগরীতে অনেক বহুতল ভবন হচ্ছে। কিন্তু ভবন নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।

নারী উদ্যোক্তা সৈয়দা সেলিমা আজাদ বলেন, পণ্য উৎপাদন করলেও বাজারজাতকরণে পাইকারী বাজার নেই। ফলে উপযুক্ত দাম পাওয়া যায় না। বিষয়টির সমাধান চান তিনি।

বিসিক শিল্প মালিক মাহবুব আলম মাসুম বলেন, বিসিকের জায়গা অনেক কম। জায়গা বাড়ানোর হলে শিল্পের প্রসার ঘটবে।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন কালাম বলেন, শহরের রাস্তা সরু হওয়ায় যানজট সমস্যা প্রকট। একই সঙ্গে শহরের মধ্য দিয়ে রেললাইন যাওয়ার কারণে শহরের রাস্তায় রাস্তায় যানজট থাকে সবসময়। এর সমাধান জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর কাঁঠাল ও আনারস হলেও উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা না থাকায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিসিকের আয়তন বৃদ্ধি ও ইপিজেড যদি পরিকল্পিতভাবে করা যায় তাহলে আগামীতে সমৃদ্ধ শহর হবে ময়মনসিংহ।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর কারণেই বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা বাস্তবায়ন।'

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে উপার্জন করছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের ফল। কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্য পায় সেজন্য এগ্রোপ্রসেসিং, ফুড প্রসেসিং কারখানার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমস্যা দূর করে দ্রুত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার ব্যবস্থা করা হবে।

দি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মো. আমিনুল হক শামীমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদ, নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, ভালুকার এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু, গফরগাঁওয়ের এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, সংরক্ষিত আসনের এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম, উপ-পরিচালক একেএম গালিব খান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার স্বাগতা ভট্টাচার্য, এফবিসিসিআই এর সহসভাপতি এম.এ রাজ্জাক খান প্রমুখ।