র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং এর সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু কমিশন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করেছে সংগঠন দুটি। গত শুক্রবার এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে ভুল ও পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে উগ্রবাদ, সহিংসতা, সন্ত্রাস প্রতিরোধে লড়ই করে যাচ্ছে র‌্যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে তারা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে যে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বিশ্বে তাদের প্রশংসা পাওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের শত্রুরা কারসাজি করে ও ভুল তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে পক্ষপাতমূলক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে শত শত মানুষের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাব। তবে এই ভাষ্য র‌্যাবের বেলায় প্রযোজ্য নয়। দেশ পরিচালনা এবং উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখার স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য সিআইএ এবং এফবিআই যেমন, বাংলাদেশের জন্যও একই রকম কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব।

একটি যৌথ বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. রাব্বি আলম ও বঙ্গবন্ধু কমিশনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শেরে আলম রাসু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনকে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ভুল সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। 

জবাবে ব্লিংকেন বলেছেন, ‘মানবাধিকারকে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রেখেছি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিই, যাতে সংশ্নিষ্টরা সজাগ হয়।’

এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিবৃতিদাতারা র‌্যাবের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুর্নমূল্যায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালনসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের গুরুত্বের শীর্ষে থাকা বিষয়গুলোর জন্যও লড়াই করে র‌্যাব।

ড. রাব্বি আলম বলেছেন, ‘আইনের অধীনে সন্ত্রাসী দমন যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, তাহলে দেশের স্বার্থে এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে আইনিভাবে তা তদন্ত করা হয়। সরকারি কোনো সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের অধীনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

শেরে আলম বলেছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। অতিরঞ্জিত খবরের ভিত্তিতে তারা এটি করেছে। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা খুব চ্যালেঞ্জের কাজ। মাদক কারবারিবা নিজেদের বাঁচাতে তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখে। যে কারণে উদ্ধার অভিযান বা গ্রেপ্তারে গেলে তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানী হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস দমনে র‌্যাব গঠন করা হয়। সেই থেকে সফলতার সঙ্গে তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয়, স্বীকৃতির বদলে এখন তারা নিন্দার শিকার হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়া র‌্যাবকে পুরস্কৃত করুক যুক্তরাষ্ট্র।