রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল। গতকাল সোমবার তার রক্তক্ষরণ হয়নি। শারীরিক অন্যান্য প্যারামিটারও ছিল অনেকটা স্বাভাবিক।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা নিরিবিলি সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে তেমন একটা কথা বলেন না তিনি। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে জানান খুব আস্তে করে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নেই তার। তা ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই চোখ বুজে থাকেন; চিকিৎসকরা সিসিইউতে এলে প্রয়োজনীয় কথা বলেন।

সিসিইউতে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং শুধু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রবেশাধিকার রয়েছে। সিসিইউর সামনে তার নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী তিনজন পুলিশকে দেখা গেছে। তারা নিয়মমাফিক ডিউটি করেন।

সূত্র জানায়, সকাল ৬টার মধ্যেই সাধারণত খালেদা জিয়ার ঘুম ভাঙে।

পরিচ্ছন্ন হয়ে ওষুধ সেবন করেন। এর আধা ঘণ্টা পর হালকা নাশতা করেন। নাশতায় মূলত তার বাসা থেকে সরবরাহ করা তরল খাবার দেওয়া হয়। এরপর তিনি আবারও একটু ঘুমিয়ে নেন।

গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসকদের মধ্যে হাসপাতালে ছিলেন কেবল ডা. এজেডএম জাহিদ। শারীরিকভাবে একটু ভালো থাকায় দুপুর ২টায় গোসলের জন্য তাকে তার কেবিনে (নং ৭২০৫) নেওয়া হয়। দুপুর আড়াইটায় তার ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি হাসপাতালে এসে খালেদা জিয়ার কেবিনে যান। বিকেল ৪টায় তাকে আবারও সিসিইউতে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে তাকে দুপুরের খাবার ও ওষুধ খাওয়ানো হয়। খাবারের মধ্যে বাসা থেকে আনা তরল খাবার ছিল।

এভারকেয়ার হাসপাতালের নিয়মানুযায়ী, বাইরের খাবারের বিষয়ে বিধিনিষেধের বিষয়টি চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মাঝেমধ্যে বাসা থেকে তার জন্য তরল খাবার নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মেডিকেল ডায়েট ফুডচার্ট অনুযায়ী তাকে খাবার দিতে হয়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শর্মিলা রহমান সিঁথি হাসপাতাল থেকে চলে যান। সাড়ে ৫টায় ডা. এজেডএম জাহিদও হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

হাসপাতালে খালেদা জিয়ার কেবিনের পাশে আরেকটি কেবিন বুকিং রয়েছে। কেবিনের সামনে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) বেশ কয়েকজন সদস্য সবসময় দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার গাড়িচালকও নিয়মিত হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গতকাল অনেকটা স্থিতিশীল ছিল। আজ সোমবার তার একটি টেস্ট রয়েছে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।