উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে এই প্রতবাদ জানান তারা। এসময় তারা অবিলম্বে অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাবির ইসলাম রুবেল, আরাফাত সাদ, কাজি রাকিব হোসাইন, আদনান আজিজ চৌধুরী প্রমুখ।

 সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত নথিপত্র প্রকাশ করায় সাংবাদিক অ্যাসাঞ্জকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা হন্যে হয়ে খুঁঁজছে। ব্রিটিশ হাইকোর্ট রায় দিল অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে, সেখানে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকি আমরা এমন আশঙ্কা করছি যে, তাকে মেরে ফেলা হবে। এটাই হলো যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শ গণতন্ত্রের উদাহরণ।

তারা আরও বলেন, মূলত বিশ্বের প্রতিটি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ছড়ানোর নামে সাম্রাজ্যবাদী একনায়কতন্ত্র ছড়াচ্ছে। আমাদের চোখের সামনে সাম্রাজ্যবাদীরা একজন সাংবাদিককে মেরে ফেলতে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং আমরা কিছুই করতে পারছি না। এটাই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী একনায়কতন্ত্র।

তারা বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাকস্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের উপর ভয়াবহ আক্রমণ চলছে। দেশে আমরা দেখেছি সাংবাদিক কাজল, রোজিনাসহ অনেকের ওপর কী রকম জুলুম হয়েছে! ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সরকার ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে। এটা শুধু কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা কতিপয় লোভী ব্যক্তির কাজ কারবার নয়, এটা গোটা সিস্টেমের অসারতার বহিঃপ্রকাশ। ফলে এই সিস্টেমকে উৎখাত না করে আমরা অ্যাসাঞ্জের মত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিককে বাঁচাতে পারবো না।