সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নতুন করে দরিদ্র হওয়া মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে যাদের আয় কমেছে, তারা এখন দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। মহামারির অভিঘাত থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে হবে। ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনে নগদ সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত দু'দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী দিনের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সিপিডির সহায়তায় রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে 'মহামারি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ : অভিজ্ঞতা অর্জন ও নীতি প্রণয়ন' শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সমাপনী বক্তৃতায় অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, করোনার প্রভাবের মধ্যেই টিকে থাকার লড়াই করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাদের শ্রেণীকরণ করা দরকার, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা যায়। তিনি বলেন, ব্যাপক জনগোষ্ঠী নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। এর অন্যতম কারণ সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সম্পদের মধ্যে ঘাটতি। সরকারকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর মতো কিছু সূচকে অগ্রগতি সাম্প্রতিক সময়ে থমকে গেছে। শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণের হার তুলনামূলক বেশি হলেও তাদের ঝরে পড়ার হারও বেশি। সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এর সমাধান দরকার।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ থাকলেও মূল্যস্ম্ফীতি বড় একটি ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে চাহিদার কিছুটা প্রভাব থাকলেও বড় কারণ হচ্ছে দাম বৃদ্ধি। অর্থনীতিতে সরকার ও রাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়াতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নতুন দরিদ্রদের জন্য উদীয়মান চ্যালেঞ্জ। যারা কাজ হারিয়ে ঋণে পড়েছেন বা নতুন ধরনের কাজ করে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এ চ্যালেঞ্জ বেশি। তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত বিনিয়োগ বাড়ানো, টিকাদান কাজে গতি আনা এবং বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ দরকার।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার মতো মহামারির প্রথম অভিঘাত পড়ে শ্রমবাজারে। করোনাকালে বিভিন্নভাবে কাজ হারানো মানুষের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমবাজার ঠিকমতো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই শ্রেণির মানুষ আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না। এ জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন নিলর্মী বলেন, করোনার প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও আগামীর লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মিনহাজ মাহমুদ বলেন, তথ্য সংগ্রহে বিলম্বের কারণে করোনার প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. রওনক জাহান বলেন, অগ্রাধিকার ও অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে- এমন লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে সরকারকে কাজ করতে হবে।

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম ও সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভীন মাহমুদ।