প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, মা-বাবার প্রতি অবহেলা প্রদর্শনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা এখন বাস্তবতার নিরিখে অপরিহার্য। তথাকথিত শিক্ষিতরাই বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সীমাহীন উদাসীনতা দেখান, যা সবাইকে ব্যথিত করে।

সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত প্রবীণ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের গৌরবোজ্জ্বল সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এ সম্মেলন আয়োজন করে।

সোসাইটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশীদ, সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ রেজাউর রহমান, প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভূঁইয়া, লায়ন রেজাউল হক ও সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক।

সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে নয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা জানানো হয়।

পরে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রবীণদের প্রতি নিপীড়ন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অথচ মা-বাবার ভরণপোষণ তথা প্রবীণদের প্রতি নবীনদের দায়িত্ব পালন সব ধর্মেরই শিক্ষা। সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তানকে তার মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সেক্ষেত্রে সন্তানরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন।

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মানজনক অবস্থান সৃষ্টির জন্য প্রবীণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া সরকার প্রণীত প্রবীণ নীতিমালা মা-বাবার ভরণপোষণ আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নে সমাজের সবাইকে কার্যকরি ভূমিকা পালন করতে হবে।