বর্তমান সময়ে অর্থপাচার ‘গুরুতর অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।  

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের তৎকালীন সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারকে চার মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রকাশিত হয়। এই আদেশের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।

গত ১৮ আগস্ট ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া জয় গোপাল সরকারকে পৃথক চার মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে এর বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

২ নভেম্বর ওই আপিলের শুনানি নিয়ে জয় গোপাল সরকারকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি ওই চার মামলা এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতেও বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল লিখিতভাবে ওই আদেশ প্রকাশিত হয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে এ মামলায় শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহামদ খুরশিদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। জয় গোপালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার গেন্ডারিয়ায় এনু-রুপনের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তাদের বাসায় টয়লেটে স্বর্ণের কমোড পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। পরে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে জয় গোপাল সরকারের নাম উঠে আসায় তাকে গতবছরের ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে ২০১৯ সালে ঢাকার গেন্ডারিয়া, সুত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় করা পৃথক চার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। 

এরই ধারাবাহিকতায় বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে জয় গোপাল হাইকোর্টেও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।