রাজধানীর সদরঘাট থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চটি যাত্রা শুরুর পর থেকেই এর ইঞ্জিনের দিক থেকে মাঝে মধ্যেই জোরে শব্দ হচ্ছিলো আর প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিলো। ওই সময় গরম হয়ে উঠছিলো লঞ্চের ফ্লোরগুলোও। লঞ্চের বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লঞ্চটি বরিশাল ঘাট ধরে বরগুনা যাওয়ার পথে রাত দুইটার দিকে আগুন ধরে যায়। এ সময় আর্তনাদ, হৈ-চৈ আর চিৎকারে অবর্ণনীয় এক পরিবেশ তৈরি হয়। আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নদীতে ঝাঁপ দিতে থাকেন, যাদের অনেকে এখনও নিখোঁজ।

একজন যাত্রী বলছেন, যখন মাঝরাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তখন একদিকে আগুন আর অন্যদিকে পানি - এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না।

লঞ্চের তিন তলার একটি কেবিনে থাকা যাত্রী জহিরুল বলেন, ‘আমরা অনেকেই বুঝতে পারছিলাম যে একটা ঝামেলা হচ্ছে। লঞ্চের ফ্লোরগুলোও গরম হয়ে উঠছিলো। ইঞ্জিনে প্রচণ্ড শব্দ। আর ব্যাপক কালো ধোঁয়া দেখছিলাম। স্টাফরা বলছিলো- সমস্যা হবে না। এরপর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ ব্যাপক চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দরজা খুলে দেখি আগুন। স্টাফরা তখনও বলছিল ধৈর্য্য ধরেন। কিন্তু আগুনের উত্তাপ সইতে না পেরে নদীতে ঝাঁপ দিলাম।’

জহিরুল প্রায় এক ঘণ্টা ভাসার পর তীরে আসতে সক্ষম হন। আগুনে তার দুই পা পুড়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

যাত্রীরা বলছেন, লঞ্চটি বরিশাল ঘাট ধরে সুগন্ধা নদী হয়ে বরগুনা যাচ্ছিলো। হঠাৎই প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায় এবং রাত দু'টার পর থেকে রাত তিনটার মধ্যে সম্পূর্ণ লঞ্চটিতে আগুন ধরে যায়। এক পর্যায়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলেও গতির কারণে লঞ্চটি রানিং ছিলো বেশ কিছুটা সময়। এ সময়ে বাতাসে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া যাত্রীবাহী সব লঞ্চের মতো এটিতেও যাত্রীদের প্রচুর পরিমাণ কাপড় আর ভেতরে ফ্লোরে কার্পেটের মতো থাকায় দ্রুতই আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লেগে যাওয়ার পর নেভানোর কোনো চেষ্টা না করে লঞ্চটির মাস্টার ও শ্রমিক-কর্মচারীরা লঞ্চ থেকে সটকে পড়েন।

তবে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের ঘটনাকে শতভাগ নাশকতা বলে দাবি করেছেন নৌযানটির মালিক মো. হামজালাল শেখ। ইঞ্জিনের ত্রুটির কথা অস্বীকার করে তিনি শুক্রবার বিকেলে সমকালকে বলেন,  এটি নতুন তিনতলা লঞ্চ। ৬ মাস আগে নামানো হয়েছে। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে তিনটি তলায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ল কিভাবে তা বোধগম্য নয়। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠী ওই লঞ্চে ছিল। পরিকল্পিতভাবে তারা এই নাশকতা করেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে প্রায় আটশ' যাত্রী নিয়ে ঝালকাঠি হয়ে বরগুনা যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাতে সুগন্ধা নদীতে এই লঞ্চে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।