দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা পরিবেশ রক্ষার কথা বিবেচনা না করেই নেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইজ থেকে ছেড়ে যাওয়া পরিদর্শী জাহাজে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু : শাশ্বত বাংলার প্রতিরূপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। 

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। ​

তথ্যমন্ত্রী  বলেন, ‘অনেক সময় প্রকল্প নেওয়া হয় কিন্তু পরিবেশরক্ষা বা প্রয়োজনের কথা চিন্তা করা হয় না। আমাদের ছোট দেশে দুই কোটি একর জমি আছে। প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি কমে। অর্থাৎ প্রতিবছর দুই লাখ একর জমি হারিয়ে ফেলছি। রাস্তা প্রশস্ত করা, অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি নির্মাণ, শহরায়ন এর কারণ। এটি হতে থাকলে দ্বীপাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া চাষবাসের আর কোনো জমি থাকবে না।’

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাংলাদেশের নিরিখে হওয়া ‘আবশ্যক’ বলে উল্লেখ করেন হাছান মাহমুদ।

পরিবেশ রসায়নে ডক্টরেট হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সমস্ত কিছু আক্রান্ত, এরপরও বাংলাদেশের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে প্রবাহিত ৫৮টি যৌথ নদী বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি বহন করে এবং সমুদ্রের তলদেশে সেটি জমা হয়। এতে করে নতুন জমি সমুদ্র থেকে উদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক জমি উদ্ধার হয়েছে। আজকের ভাসানচর সাত বছর আগে ছিলো না। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ছিল না। পরিপূর্ণভাবে একটি নতুন উপজেলা গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সমুদ্র থেকে জমি উত্তোলনের বিরাট একটা সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২১০০ সালের বদ্বীপ পরিকল্পনায় বিষয়টিতে আলোকপাত করা হয়েছে। এটি নিয়ে আরো কাজ করা প্রয়োজন। কয়েক দশকের পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে সমুদ্র থেকে বিরাট একটি অংশ আমাদের দেশের সাথে যুক্ত করতে আমরা সক্ষম হবো।’ 

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নদীপথ ইতোমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। আরও নদীপথ উদ্ধারের জন্য ড্রেজার ও জাহাজ কেনা হয়েছে। 

নৌপথ উদ্ধারের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বড় নদীগুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ৯৩ শতাংশ বাংলাদেশের বাইরে ভারত, ভুটান, নেপালে আর ৭ শতাংশ  বাংলাদেশের ভূমিতে। সুতরাং নৌপথ উদ্ধারের পরিকল্পনা আন্তঃদেশীয় পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম,  দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মংলা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মুসা, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এডভোকেট মনজুর মোর্শেদ, বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান আহমেদ শামীম আল রাজী, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ড.সাজিদ হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রিয়াজউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু সংবাদে ড. হাছান মাহমুদ প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দ্য নিউজ টুডে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালনকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন।