আইন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। 

সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনের এমন নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরিসহ সাত দফা লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরে দলটি বলেছে, দেশের মানুষ সহিংস নির্বাচনের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণভাবে সব ধরনের প্রভাব মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন দেখতে চায়।

রোববার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপকালে ন্যাপ নেতারা এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপের তৃতীয় দিনে আওয়ামী লীগ নেতত্বাধীন ১৪ দলের শরিক ন্যাপের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আবদুল হামিদ।

এদিন বিকেল চারটায় ন্যাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদের নেতৃত্বে দলটির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে যোগ দেন। আলোচনাকালে দলের পক্ষে সাত দফা প্রস্তাবনাসম্বলিত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।  

ইসি গঠনে আইনি কাঠামো প্রণয়ন ছাড়াও ন্যাপের সাত দফা প্রস্তাবনাগুলো হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী করা; সৎ, যোগ্য, নির্মোহ ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগদান; নির্বাচনে পবিত্র ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্র ও পেশী শক্তি ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদান; স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠনকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা প্রভৃতি।

সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে ন্যাপের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই সংলাপের আলোচনার মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ইসি গঠনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। 

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর বঙ্গভবনের সামনে ন্যাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সব্রা কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন চান তারা। এই লক্ষ্যে সংবিধানের আলোকে আইন প্রণয়নের জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বানের উদ্যোগ নিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। সংলাপে এমন প্রস্তাবই দিয়েছেন তারা। 

ইসি গঠনে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানান ন্যাপের এই নেতা।       

আইভি আহমেদের নেতৃত্বে সংলাপে অংশ নেওয়া ন্যাপের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, কাজী সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্তী এবং সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অনীল চক্রবর্তী। সংলাপের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ন্যাপের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের জন্য বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দলটি সংলাপে যোগ দেয়নি। অবশ্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সংলাপে যোগদানের অপারগতার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বাসদ। 

বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। 

নতুন ইসি গঠনে একটি সার্চ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সংলাপের প্রথম দিনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং দ্বিতীয় দিনে ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে (জাসদ) সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। 

সোমবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন এবং সন্ধ্যা ছয়টায় খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। 

এছাড়া মঙ্গলবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি,  ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, একই দিন সন্ধ্যা ছয়টায় ইসলামী ঐক্যজোট, ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় গণফোরাম, একই দিন সন্ধ্যা সাতটায় বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় গণতন্ত্রী পার্টি ও একই দিন সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সঙ্গে সংলাপের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। তবে সিপিবি সংলাপে যাবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে।