একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ‘আড়াই লাখ’ বীরাঙ্গনার নাম-পরিচয় রাষ্ট্রকেই প্রকাশ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আড়াই লাখ বীরাঙ্গনার কথা বলা হয়। কিন্তু স্বীকৃতি পেয়েছেন মাত্র ৪১৬ জন। এর চেয়ে ন্যক্কারজনক আর কি হতে পারে। আড়াই লাখ বীরাঙ্গনার হিসাব, নাম, পরিচয় রাষ্ট্রকে দিতে হবে।’

মঙ্গলবার ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে বীরাঙ্গনা জয়গুন নাহার খানমকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এবারই প্রথম সংবর্ধনা ও সম্মাননা পেলেন জয়গুন নাহার খানম। গত ১৩ নভেম্বর মেরুদণ্ড ব্যাথা নিয়ে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিনামূল্যে তার চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি নারীপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে এই বীরাঙ্গনাকে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা যুদ্ধ করেছি একবার, একাত্তরে নয় মাস। কিন্তু বীরাঙ্গনারা আছেন যুদ্ধ করেছেন বারবার। একাত্তরে যুদ্ধ করেছেন, যুদ্ধের পর যুদ্ধ করেছেন, এখনো যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। ’

তিনি বলেন, ‘বীরাঙ্গনাদের অবদানটা কোনো অংশে কম তো নয়ই, বরং অনেক বেশি। আমরা মুজিব শতবর্ষ পালন করছি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি, এখন এই বীরাঙ্গনাদেরও সম্মান দিতে হবে। রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে হবে আড়াই লাখ বীরাঙ্গনার হিসাব, নাম, পরিচয় দিতে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অশ্রুভেজা চোখে একাত্তরে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া বীভৎস নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন জয়গুন নাহার। 

তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে জন্ম হয় তার মেয়ের। এরপর শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। পরিবার, সমাজের নানা কটু কথা শুনে দিন পার করতে হয় মা, মেয়েকে। এভাবে ৫০টা বছর কেটেছে। তিনি পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা। এখন বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষা করে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার। যুদ্ধদিনে জয়গুনের ওপর নির্যাতনের বর্ননা শুনে উপস্থিত অতিথিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক বদরুল হক। বক্তব্য রাখেন নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভানেত্রী ফরিদা আখতার, নারী পক্ষের সদস্য লিপি লিলিয়ান রোজারিও, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের নিউরোসাইন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এইচ শাহরিয়ার সাবেত। উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জেবাহ্‌ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আকরাম হোসেন, অধ্যাপক শওকত আরমান।