উন্নয়ন-সমৃদ্ধির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্নয়ন না হলে তা টেকসই হবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি দেশের উন্নয়নের বাধার সৃষ্টি করবে। 

‘মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।  

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আশকারী, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সম্প্রতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর, অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, দেশের সর্ব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। একইসাথে সমানভাবে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিচ্ছে। ধর্মান্ধতা,উগ্রতা,মৌলবাদ কমেনি; আরও বেড়েছে। এই গোষ্ঠী জাতিকে বিভক্ত করছে। চল্লিশের দশকেও দেশকেও এত সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। সমৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় যদি কমে তাতেও ক্ষতি নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। ডলারের হিসেবে দেশ এগিয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ সোনার বাংলা পরিণত হবে না। এতে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দেশকে উন্নত করতে আমাদের বারবার সংগ্রাম করতেই হচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণেও আমাদের দেশী ও বিদেশী শক্তির বাধার সম্মুখীনে হতে হয়েছিল। আমাদের পহেলা বৈশাখ উদযাপন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত করতে র্যাবের নিরাপত্তায় করতে হয়। স্বাধীনভাবে এসব উৎসব উদযাপন করতে পারি না। দেশকে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর খামচি দিয়ে ধরেছে। এসব গোষ্ঠীর মূলোৎপাটন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে।  ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রুপান্তরিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পিত কাঠামো করা হয়েছে। উন্নয়ন গতিশীল হয়েছে। 

কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আশকারী বলেন, সার্ভিস সেক্টরের উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যায় না। সার্ভিস সেক্টরের উন্নয়ন ঘটাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বৈশ্বিক প্রপঞ্চের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিকতা, অর্থনৈতিক সাম্যের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এ গোষ্ঠীই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এই গোষ্ঠী এখনও সক্রিয়। তাদের তৎপরতার কারণে ৫০ বছরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়নি। দেশে শুধু উন্নয়নের সমৃদ্ধির করলে হবে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমৃদ্ধ করতে হবে।