ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শ্রম আইন সংশোধন বিলে টাইপিং ত্রুটির কথা জানালেন আইনমন্ত্রী

শ্রম আইন সংশোধন বিলে টাইপিং ত্রুটির কথা জানালেন আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৮:১০ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:১৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধনী) ত্রুটি সংশোধন করে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, গত অধিবেশনে তড়িঘড়ি করে অনেকগুলো বিল একসঙ্গে পাশ হয়েছে। সে সময় শ্রম আইন সংশোধনী টাইপিংয়ে এমন ত্রুটি ছিল যে, এতে শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, সেটা রাষ্ট্রপতি আইনগতভাবে স্বাক্ষর না করে নোট দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন। শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবেই এমনটি হয়েছে বলে জানান তিনি। বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা কথা বলেন তিনি। 

আইনমন্ত্রী বলেন, শ্রম আইনটা যখন পাস করার আগে এটি যখন সংসদে যায়, তখন একটা ত্রুটি ছিল। এটা অন্য কোনো ত্রুটি না, এটা টাইপিংয়ের ত্রুটি। একজায়গায় শ্রমিকদের সঙ্গে যদি মালিকরা বেআইনি আচরণ করেন, তাহলে তাদের জন্য একটি সাজার কথা আইনের মধ্যে আছে। সেটা এখানে ত্রুটি (মিসপ্লেস) হয়ে গিয়েছিল। যেটা হওয়ার কথা ছিল, সেটা অন্যরকম হয়েছে।

তিনি বলেন, যেটা সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে সইয়ের জন্য গেছে, তখন এটা যেহেতু পরিলক্ষিত হয়েছে যে, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুন্ন হয়ে যেতে পারে, সে জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ভুলের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। তখন বিলটিতে সই না করে সংসদে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আনিসুল হক বলেন, যেহেতু এটি সংসদে পাস হয়ে গেছে এবং এই জায়গাটুকু সংশোধন করতে হবে। তার মানে হচ্ছে, যেহেতু এখন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়ে গেছে এবং বর্তমান সংসদে আর অধিবেশন হবে না, সেহেতু নির্বাচনের পর যে নতুন সংসদ বসবে, সেখানে এটা সংশোধন করে ফের উপস্থাপন করা হবে এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের দরকার পড়বে না।

মন্ত্রী বলেন, সরকার যখন দেখতে পেল যে, শ্রমিকদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তাতে কিছু ত্রুটি হয়ে গেছে এ জন্য সরকারই এটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি আইনগতভাবে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আইনটিতে মালিকদের কিছু আচরণের ব্যাখ্যা করে দেওয়া আছে। বলা আছে, কোনো মালিক কোনো বেআইনি লকআউট শুরু করলে কিংবা চালিয়ে গেলে অথবা তা এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই সাজাটা ছিল পাঁচ হাজার টাকা, কিন্তু এটা ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এখানে আইনের উপধারাটা ঠিকভাবে উপস্থাপন হয়নি। এখানেই ত্রুটিটা হয়ে গেছে।

মার্কিন শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা সতর্ক করতেই পারে, তবে এরসঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম আইনের কোন সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৩ গত ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এরপর ৮ নভেম্বর বিলটিতে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। সেটা স্বাক্ষর না করে ২০ নভেম্বর সেটা ফেরত পাঠান রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন

×