ঢাকা রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

মহাসমাবেশ ভন্ডুলের পর ‘গণহারে’ সাজা

মহাসমাবেশ ভন্ডুলের পর ‘গণহারে’ সাজা

.

ওয়াকিল আহমেদ হিরন ও কামরুল হাসান

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০১:২৪ | আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০৮:২৫

আলোচিত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশই ছিল রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ওই সমাবেশ ভন্ডুল হওয়ার পরই কার্যত শুরু হয়েছে ‘গণহারে’ পুরোনো মামলায় সাজার রায়। প্রায় প্রতিদিনই একাধিক মামলার রায় ঘোষণা করছেন আদালত। ২৮ অক্টোবরের পর গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ১৬ দিনে ৫৩ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন ৮৮৯ বিএনপি নেতাকর্মী। এমনকি গত সাড়ে তিন মাসে সারাদেশে নাশকতার ৬৩ মামলায় দলটির ৯৮৮ নেতাকর্মীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী দুই বছর এবং অনেকে তার চেয়ে বেশি মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন। অবশ্য এর মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিক মামলায়ও সাজা পেয়েছেন। নজিরবিহীন দ্রুতগতির রায়ের ঘটনায় মামলা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন নেতাকর্মীর আইনজীবীরা। আবার দায়সারা তদন্তের কারণে মৃত ও গুম হওয়া নেতাকর্মীকেও সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে ‘ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি’ থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। 

চলমান আন্দোলন দমনে এবং নির্বাচনে অযোগ্য করতেই দ্রুতগতিতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গণহারে কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলীয় নেতা ও আইনজীবীরা। তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সরকারি আইনজীবীরা বলছেন, স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব রায়।

অবশ্য বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা জানান, কারাদণ্ড হওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তৃণমূল পর্যায়ে অনেক মামলার রায়ের তথ্য-উপাত্ত কেন্দ্রে আসে না। যেসব মামলায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের

সাজা দেওয়া হচ্ছে, সেসব তথ্যই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। আবার অনেক নেতাও মামলার বিষয়ে দলকে জানান না। তাই ঢাকাসহ সারাদেশে মামলায় সাজার সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই।

বিএনপির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী দলকে আন্দোলন ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানামুখী পরিকল্পনা করে রেখেছিল সরকার। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পুরোনো মামলায় তড়িঘড়ি করে রায় ঘোষণা করা হচ্ছে; যাতে বিএনপি নেতাদের আন্দোলন থেকে দূরে রাখা যায় এবং দল নির্বাচনে গেলেও তারা যাতে অংশ নিতে না পারেন। অবশ্য সরকারের আইনজীবীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, এসব রায় স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার অংশ।

সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়েছে ১৫ নভেম্বর। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোট। সে হিসেবে নির্বাচনের বাকি মাত্র ২৬ দিন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে তারা। এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপি নেতাদের সাজার রায়ে এখনই তেমন প্রভাব পড়ছে না। তবে এর প্রভাব পড়ছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে। মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে দলটির নেতাকর্মীর মধ্যে।

জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা, ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বেআইনি সমাবেশ, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের রাজনৈতিক মামলায় সাজা হচ্ছে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীর। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে নাশকতা ও দুদকসহ আরও দুই ডজন মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক, অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। 

আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আদালতে আগস্টে তিনটি, অক্টোবরে ছয়টি, নভেম্বরে ৩৩টি এবং ডিসেম্বরের গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৭টি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীর সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবরের পর ১৩ নভেম্বর একটি মামলায় আটজন, ১৪ নভেম্বর এক মামলায় ১০, ১৫ নভেম্বর পাঁচ মামলায় ৯৩, ১৬ নভেম্বর দুই মামলায় ১৩, ১৯ নভেম্বর এক মামলায় ১২, ২০ নভেম্বর ছয় মামলায় ১৩৬, ২২ নভেম্বর দুই মামলায় ২০, ২৩ নভেম্বর পাঁচ মামলায় ১৭৯, ২৬ নভেম্বর এক মামলায় ৪, ২৭ নভেম্বর তিন মামলায় ৩৯, ২৮ নভেম্বর তিন মামলায় ৭১, ২৯ নভেম্বর দুই মামলায় ২২, ৩০ নভেম্বর তিন মামলায় ৩৯, ৩ ডিসেম্বর চার মামলায় ২৫, ৪ ডিসেম্বর চার মামলায় ৩০, ৬ ডিসেম্বর তিন মামলায় ৪৬, ১০ ডিসেম্বর তিন মামলায় ৭৩ এবং ১১ ডিসেম্বর তিন মামলায় ৩১ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, ঘোষিত রায়ের অধিকাংশই ২০১৩ ও ২০১৮ সালের রাজনৈতিক মামলা। ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম, ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ অধস্তন আদালতে এসব মামলার রায় হচ্ছে। 

বিএনপির অভিযোগ, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন ব্যাহত করতে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য করতেই দলের সক্রিয় আর জনপ্রিয় নেতাদের টার্গেট করা হয়েছে। সে অনুযায়ী শুধু বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলাগুলোই দ্রুত গতিতে বিচার শেষ করা হচ্ছে। ওইসব মামলা রায় এত দ্রুত করা হচ্ছে, তাদের আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। মামলায় সাক্ষীদের জেরা করা, তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করার সুযোগও পাচ্ছেন না তারা। মামলার রায় দ্রুত দেওয়ার জন্য অনেক সময়ে রাতেও আদালতের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাড়াহুড়োর কারণে ওইসব একতরফা মামলার রায়ে মৃত কিংবা গুম হওয়া নেতাকর্মীও বাদ যাচ্ছেন না। 

এ ব্যাপারে দলটির নেতারা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদিও আদালত বলছেন, আদালতে উত্থাপিত নথিতে মৃত ও গুমের তথ্য নেই। এর দায় আদালতের নয়– তাহলে এর দায় কার? নিশ্চয় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার। এতেই প্রমাণ মেলে তারা সঠিক তদন্ত না করেই সব অভিযোগপত্র দিয়ে দিচ্ছেন। দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদনের ‘বলির পাঁঠা’ হয়ে কী পরিমাণ নিরপরাধ ব্যক্তির কারাদণ্ড হয়ে যাচ্ছে, তার হিসাব নেই। মৃত ও গুম হওয়া ব্যক্তির সাজা নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর ছাপা হওয়ার পরও আদালত সতর্কভাবে যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো আদেশ দেননি।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর একদিকে যেমন নেতাকর্মী ধরতে অভিযান চলছে; অন্যদিকে দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলারও রায় দ্রুতগতিতে চলছে। অক্টোবরের পর থেকে ৫১ মামলায় ৮৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে মাত্র ৭৩ জন আছেন, যাদের সাজা দুই বছরের কম। বাকিরা দুই বছর বা এর বেশি মেয়াদে দণ্ডিত। 

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতারা যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।  
তবে এ অভিযোগ নাকচ করে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। ১০ বছর আগের পুরোনো মামলার রায় হচ্ছে– এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি (ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’

এ ব্যাপারে বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ সমকালকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে ভীতি সৃষ্টির জন্য এ ধরনের মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে। সাজা মাথায় নিয়েই নেতাকর্মী দলের সঙ্গেই আছেন। তবে সাজা দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য করার পূর্বপরিকল্পনা দেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেও অশনিসংকেত।
তবে ১০ বছর আগের পুরোনো মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে এগুলো নিষ্পত্তি করে রায় দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো বিষয় নেই।

বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুরোনো মামলার কথা বলা হলেও বাস্তবে শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যেখানে একটি সাধারণ ও পুরোনো মামলায় দেড় মাস থেকে দুই মাস পর ধার্য তারিখ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এসব রাজনৈতিক মামলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তারিখ দেওয়া হচ্ছে। সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও অনিয়ম রয়েছে বলে জানান তারা। বলেন, মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য শুধু পুলিশি সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করেই সাজা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষীকে হাজির করা হচ্ছে না। উচ্চ আদালতে এসব সাজার একটাও টিকবে না বলে তাদের দাবি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভের মতো বিচার বিভাগকেও সরকার ধ্বংস করেছে, দলীয়করণ করেছে। এর মাধ্যমে এখন বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফরমায়েশি রায় ঘোষণা করছে। এসব মামলা দিয়ে, সাজানো রায় দিয়ে তাদের আন্দোলন দমন করা যাবে না।

দণ্ড পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতা
দণ্ড পাওয়া বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, গ্রাম সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক বেলাল আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনু, নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, হাবিবুর রশিদ হাবিব, আকরামুল হাসান, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাবেক সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, রাজশাহী জেলা বিএনপি সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদ প্রমুখ। এ ছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সাজার রায় বহাল রেখেছেন আদালত।

রায়ের অপেক্ষায় অর্ধশতাধিক নেতা
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষের দিকে রয়েছে। যে কোনো সময় তাদের মামলায় রায় ঘোষণা করা হতে পারে। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় আজ ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

বিশেষ করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, সহ-পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের গোলাম মাওলা শাহীন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ আরও অনেক নেতাকর্মীর মামলা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

গতকালও ৫৯ জনের কারাদণ্ড
রাজধানীর গুলশান, তেজগাঁও ও পল্টন থানার নাশকতার পৃথক তিন মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, জামায়াত নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিএনপি-জামায়াতের ৩১ নেতাকর্মীর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত এসব রায় ঘোষণা করেন।

২০১৮ সালে গুলশান থানার নাশকতার এক মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন– মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম আকরাম, নুর হোসেন, শরীফ উদ্দিন মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, রফিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান প্রাপ্ত, জয়নাল ও মীর মোহাম্মদ স্বপন।
২০১৩ সালের তেজগাঁও থানার নাশকতার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবসহ ১০ জনকে পৃথক দুই ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান ওরফে আনোয়ার, লুৎফর রহমান, শাহীন ওরফে গান্ডু শাহীন, তরিকুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আমিনুল ইসলাম জাকির, গোলাম কিবরিয়া শিমুল, বিল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন। রায় ঘোষণার সময় প্রথম দু’জন উপস্থিত থাকলেও অপর আটজন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কারওয়ান বাজার ওয়াসা ভবনের সামনে ট্যাক্সিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চালক বাবুল ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ রাতে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

পল্টন থানার অপর মামলায় জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপির রফিকুল আলম মজনুসহ ১০ জনকে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মো. এরশাদুল, হুমায়ুন কবীর রওশন, জোনাইদ, আব্দুল কাদের খন্দকার, খন্দকার এনামুল হক এনাম ও মিজানুর রহমান টিপু। এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা পল্টন এলাকায় মিছিল বের করে জনজীবন, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটান। এ সময় তাদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য ও পথচারী আহত হন।

একই দিন কামরাঙ্গীরচর থানার দুই নাশকতার মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালত। প্রথম মামলার রায়ে এক আসামির এক বছর,  ছয়জনের দুই বছর এবং অপর পাঁচজনকে দেড় বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলাটিতে বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন একই আদালত। এর মধ্যে সাতজনকে ৩৫৩ ধারায় দুই বছরের সশ্রম সাজা এবং দণ্ডবিধির ৪৩৫/১৪৯ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর ৯ জনকে ৩৫৩ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড এবং ৪৩৫/১৪৯ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয় চারজনকে।

আরও পড়ুন

×