ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

চবিতে বিশেষ ক্ষমতাবলে নিয়োগ

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি

.চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ক্ষমতায় নিয়োগের প্রতিবাদে রোববার উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নেতাদের অবস্থান কর্মসূচি সমকাল

 চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:২৭ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৩৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাংলা ও আইন বিভাগে বিশেষ ক্ষমতাবলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্বে উপাচার্য শিরীণ আখতারের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। এর আগে নিয়ম ভেঙে ওই দুই বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল চেয়ে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

চবি শিক্ষক নেতারা জানান, আইন ও বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, সংবিধি ও শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, কোন বিভাগে কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিকল্পনা কমিটি। এর পর শূন্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তবে বাংলা ও আইন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি বরাবর নতুন শিক্ষকের প্রয়োজন নেই জানালেও উপাচার্য তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। একই ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারও ডেকেছেন। গতকাল দুপুর ২টায় আইন বিভাগে দুই প্রভাষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার ছিল। আর বাংলা বিভাগে সাত শিক্ষক পদের বিপরীতে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের তারিখ রয়েছে আজ সোমবার। 

তারা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি একাধিকবার উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে। সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করা, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দ দেওয়াসহ ২৬ দাবিতে উপাচার্যকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল বেলা ১১টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে সমিতির নেতারা। 

সভা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই দুই বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল চেয়ে চিঠি নিয়ে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কার্যালয়ে যান শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ছয়জনসহ অন্তত ৫০ শিক্ষক। এ সময় উপাচার্য সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকীকে চিঠিটি পড়তে বলেন। পরে চিঠিতে উল্লেখ থাকা বিভাগের সম্মতি না থাকার পরও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা, নিয়োগ বাণিজ্যের আর্থিক লেনদেনের অডিও ফাঁসের পরও জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়গুলো বাদ দিতে বলেন উপাচার্য। এ নিয়ে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে উপাচার্য কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ছয় সদস্যকে সভার জন্য কার্যালয়ের পাশের কক্ষে ডেকে প্রায় আধঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এর পরই দুপুর ২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক নেতারা।
সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ওই সময় বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরে সন্ধ্যায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন। 

আরও পড়ুন

×