ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

আ’লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

আ’লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

.

 সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:২৯ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১০:২১

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন গতকাল রোববার তিন জেলায় আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী-৪ আসনে নৌকা ও নাটোর-৪-এ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনে নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

রাজশাহী-৪ আসনে মাহাবুর রহমান নামে নৌকার একটি ভোটকেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবকে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হকের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গতকাল দুপুরে বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গোপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

মাহাবুর নৌকা প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের অনুসারী এবং যাত্রাগাছি ভোটকেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব। উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবুর নেতৃত্বে মুখোশধারীরা এ হামলা করে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তবে আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘এ হামলার মাধ্যমে আমাকে নিয়ে একটি গেম হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মাহাবুর। এ সময় আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন মুখোশধারী এসে তাঁকে ধরে সড়কে নিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য কৈফিয়ত চায়। এক পর্যায়ে মাহাবুরকে সড়কে ফেলে হাতুড়িপেটা করে তারা।

আবুল কামাল আজাদ বলেন, এমপি এনামুলের অনুসারীরা নেতাকর্মীকে হুমকি দিচ্ছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে অভিযোগের বিষয়ে ফোন করলে এনামুল হক ধরেননি।
বাগমারা থানার ওসি অরবিন্দ সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তারা।

নাটোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ শোভনের সমর্থক জালাল উদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায়

 গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাঁকে মারধর করে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর কর্মীরা।

আহত জালাল উদ্দিন নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, নাজিরপুর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী শোভনের এক সভায় যাওয়ার পথে নৌকা প্রার্থীর অনুসারী নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর সমর্থক মো. আলামিন, মো. আলমসহ ১০-১৫ জন কাঠ দিয়ে মারধর করে।

ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, এ ধরনের ঘটনা তিনিও শুনেছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গুরুদাসপুর থানাকে বলেছি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি উজ্জ্বল হোসেন জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিরোজপুর-১ আসনে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার কদমতলা ও পৌর শহরের ম্যালেরিয়া পোল এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, দুটি ইজিবাইক ও বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জেরে বিকেলে নৌকা সমর্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলুর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইখতেখার মাহমুদ সজলের বাসা ও অফিসে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

জানা গেছে, দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের অনুসারীরা তাঁর মেজো ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মুজিব অভির নেতৃত্বে সদরের পাঁচপাড়া কদমতলা এলাকায় পৌঁছলে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে অভি, রনি দাস ও স্মরণ চক্রবর্তী আহত হন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে অভির পেছনে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বহর কদমতলা বাজারে এসে দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দুটি ইজিবাইক ভাঙচুর ও শহরে আসার পথে ব্রাহ্মণকাঠি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ম্যালেরিয়া পোল এলাকায় নৌকার সমর্থক পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদকে পিটিয়ে আহত করে তারা।

হামলার জন্য নৌকা প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়জিদ হোসেনের অনুসারীদের দায়ী করা হয়। তবে বায়জিদ হোসেন বলেন, অভির নেতৃত্বে লোকজন কদমতলা এসে নৌকার অফিস ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। পড়ে গিয়ে অভি আহত হলেও তার অনুসারীরা পরে বাজারে এসে তাণ্ডব চালায়।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের বাসা ও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তারা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা যুবলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান ফুলুর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে জানা গেছে। আক্তারুজ্জামান ফুলু বলেন, মাইক্রোবাস ও শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর থেকে একদল যুবক বাড়ির সামনে এসে গালাগাল ও ৫-৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে চলে যায়।

সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান জানান, পৃথক সংঘর্ষে আহতের ঘটনা ঘটলেও বাসাবাড়িতে গুলি করার খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি]

 

আরও পড়ুন

×