ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিনিয়োগের ফাঁদ বিদেশি কোম্পানিতে

২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়েছে প্রতারক চক্র

বিনিয়োগের  ফাঁদ বিদেশি কোম্পানিতে

.

 আব্দুল হামিদ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:১৭ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০৫:২৯

ঢাকা ও এর আশপাশে জমি কেনাবেচায় দালালি করতেন মুকুল ভাই ও ইমতিয়াজ পাঠান। এতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না তারা। পরে নামেন ‘ডিজিটাল প্রতারণায়’। খনিজ সম্পদ উত্তোলনকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘লেকঅয়েল লিমিটেডের’ নাম ভাঙিয়ে হাতিয়ে নেন ২৬ লাখ টাকার বেশি। 

পুলিশ জানায়, প্রতারক মুকুল ও ইমতিয়াজ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রথমে তারা লেকঅয়েল লিমিটেডের আদলে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট বানান, নাম দেন ‘লেকঅয়েল অর্গানাইজেশন’। এরপর তারা সেই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে মানুষকে পরামর্শ দেওয়া শুরু করেন। কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হলে তাঁকে মূল লেকঅয়েলের সাইট দেখান। পরে কৌশলে ‘লেকঅয়েল অর্গানাইজেশনে’ আবেদন করান। বিনিয়োগকারীকে বলা হয়, এক হাজার ডলার বিনিয়োগে প্রতিদিন তারা ৬ ডলার লাভ পাবেন। এভাবে প্রতারক চক্রটি চারজনের কাছ থেকে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর সবুজবাগ থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন বিনিয়োগকারী সঞ্জীব কুমার রায়। মামলায় আসামি করা হয় চক্রের মূল হোতা ইমতিয়াজ পাঠান ওরফে বশির উদ্দিন খান ও মুকুল ভাই এবং তাদের সহযোগী শহিদুজ্জামান খান আজমাঈন, আসিফুজ্জামান ওরফে ফয়সাল, হুমায়ুন কবির ও ফেরদৌস রহমানকে। গত বছরের ৩ জানুয়ারি চক্রের মূল হোতা দুই বন্ধু বাদে সহযোগী চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলাটি তদন্ত করে ডিএমপির সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় শহীদুজ্জামান খান এবং মারা যাওয়ায় মুকুলকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনজন জামিনে থাকলেও পলাতক রয়েছেন মূল হোতা ইমতিয়াজ পাঠান।
ভুক্তভোগী বজলুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘সহকর্মী সঞ্জীবের পরিচিত একজনের মাধ্যমে লেকঅয়েল কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দানকারীদের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের কাছে সাপ্তাহিক লভ্যাংশ দেওয়ার কথা শুনে চারজন মিলে বিনিয়োগ করি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর লভ্যাংশ না দিয়ে প্রতারণা শুরু করে তারা। ফাঁদে পড়ে জমানো টাকা হারিয়ে বিপাকে পড়েছি।’ 

প্রতারণা শুরু যেখান থেকে
ডিবিএল গুলশান অফিসে বাদী সঞ্জীবের সঙ্গে পরিচয় হয় লেকঅয়েল কোম্পানির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দানকারী ইমতিয়াজ ও মুকুলের সঙ্গে। ইমতিয়াজ তাঁকে জানান, ইংল্যান্ডের লেকঅয়েল লিমিটেড আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করে। তারা গোটা বিশ্ব থেকে বিনিয়োগ নেয়। এক হাজার ডলার বিনিয়োগে প্রতিদিন লাভ দেয় ৬ ডলার। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ওই লভ্যাংশ তোলা যায়। কোম্পানির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থা দেখতে পারেন। কীভাবে লভ্যাংশ তোলা যাবে তাও শিখিয়ে দেন। কিন্তু বিনিয়োগের পর সঞ্জীব লভ্যাংশ তুলতে পারেন না! ইমতিয়াজ ও মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে জানানো হয়, তারা লভ্যাংশ তুলতে পারবেন না, তবে কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন।

পুলিশ জানায়, এই প্রতারণার মূল হোতা ইমতিয়াজ ও মুকুল ভাই। পরে পূর্বপরিচিত আসিফুজ্জামান ও হুমায়ুনকে তারা দলে নেন। ঢাকায় জমির দালালিতে প্রচুর লাভ থাকার পরও তারা সাইবার প্রতারণার পরিকল্পনা করেন।

ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি
মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকার এম.এম আইটি থেকে ব্রিটেনের লেকঅয়েল কোম্পানির আদলে প্রতারকরা একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এম.এম আইটিকে চক্রটি জানায়, তারা সেখানে কোম্পানির হিসাবনিকাশ রাখবে। কিছুদিন পর মুকুল ভাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ইমতিয়াজ চক্রের নেতৃত্বে আসেন।
সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘সম্প্রতি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 


 

আরও পড়ুন

×