ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সংক্রমণ বাড়ছে, টিকাদান ঝিমিয়ে

করোনাভাইরাস

সংক্রমণ বাড়ছে, টিকাদান ঝিমিয়ে

.

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০০:২৫ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ০৯:০৮

দেশে আবারও বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এরই মধ্যে রোগী শনাক্তের হার ৬ শতাংশ ছুঁইছুঁই। ফলে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে দ্রুত সবাইকে আবার টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও একই পরামর্শ দেয়। তবুও টিকাদান কর্মকাণ্ডে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সূত্র বলছে, সব মানুষের মধ্যে আবার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা সংগ্রহ করেনি টিকাদান কেন্দ্রগুলো। অনেক কেন্দ্র এখনও টিকাদানের জন্য প্রস্তুতও নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, করোনা প্রতিরোধে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম গণটিকাদান শুরু করে সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে টিকার তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ প্রয়োগ বন্ধ করা হয়। পরে টিকা সংকট ও মানুষের আগ্রহ না থাকায় ধীরে ধীরে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি করোনার নতুন একটি উপধরন ছড়িয়ে পড়ায় তা প্রতিরোধে ৯ মাস পর আবার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। 

গত ৩ জানুয়ারি জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি টিকা প্রয়োগে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেয় সরকারকে। এ ছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি অধিদপ্তরের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতেও টিকা প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে আজ রোববার থেকে ঢাকা শহরের আট কেন্দ্রে করোনার টিকার বুস্টার (তৃতীয় বা চতুর্থ ডোজ) দেওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রগুলো হলো– বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এর মধ্যে কেবল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করেছে অধিদপ্তর থেকে। এই দুই কেন্দ্রে আজ রোববার থেকেই টিকার চতুর্থ ডোজ মিলবে। বাকি ছয় কেন্দ্রের অভিযোগ, তাদের এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাই তাদের প্রস্তুতি নেই। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অনেকদিন আগে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার কথা বলেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তখন চতুর্থ ডোজ টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ তেমন ছিল না। তবে গত বৃহস্পতিবার অধিদপ্তর থেকে ফোন করে টিকা সংগ্রহের বিষয়ে বলল। যেহেতু এখনও টিকা সংগ্রহ করতে পারিনি তাই রোববার টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। সোমবার থেকে শুরু করতে পারব।’ বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই বক্তব্য।

সীমিত আকারে বুস্টার ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম আজ শুরু হলেও যারা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেননি তাদের টিকা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। পরে ধাপে ধাপে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও সরকারি হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় শুরু হবে কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্য সচিব ডা. নিজাম বলেন, ‘এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা দিয়ে টিকাদান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয় থাকছে না। টিকা পাওয়া মাত্র কেন্দ্রগুলো প্রয়োগ শুরু করতে পারবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার জন্য নতুন করে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই টিকা দেওয়া শুরু হবে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামান্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, দেশে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষকে টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর আড়াই কোটি মানুষকে টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া হবে। এ বছর পাবে এক কোটি ২৫ লাখ মানুষ। বাকি এক কোটি ২৫ লাখ মানুষ টিকা পাবে আগামী বছর। টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্পরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব) জনগোষ্ঠী ও গর্ভবতী নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডাক্তার মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ বড় আকারে বাড়তে পারে। এটা প্রতিরোধে ফের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে হবে।’ সরকারি সূত্র বলছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে একযোগে টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে ফাইজার আরটিইউ টিকা ব্যবহার করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল, মহাখালী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়াবাজার ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এ টিকা দেওয়া হবে। তবে বুস্টার ডোজ নিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাবার প্রমাণ হিসেবে আগে নেওয়া টিকার নাম এবং তারিখ উল্লেখপূর্বক কভিড-১৯ টিকাদান কার্ডসংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে আনতে হবে। এর জন্য সুরক্ষা ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ থেকে টিকাকার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন সবাই। 

১৩ জনের করোনা শনাক্ত
দেশে আগেরদিন সকাল ৮টা থেকে গতকাল একই সময় পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ মারা যায়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ২২৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতি ১০০ নমুনায় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×