নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জয় বাংলা স্লোগান দেই বলে অনেকেই আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাকে কাফির বলে অভিহিত করছে। আমি নাকি মসজিদ ভেঙেছি, মন্দিরের জায়গা দখল করেছি। আজ পর্যন্ত কেউ এমন কথা প্রমাণ করতে পারবে না। আমি নারায়ণগঞ্জে নতুন সাতটি মসজিদ করেছি। হেফাজত আমার নামে নিয়মিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, 'সিটি করপোরেশনে আমি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। তবু আমার বিরুদ্ধেই বেশি অভিযোগ। আমি নারী বলেই এটা হচ্ছে। অথচ আমি কখনোই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করি না।'

আইভী বলেন, ‘প্রতিপক্ষ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু আমি বলছি, ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হবে, নিরপেক্ষ ভোট হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকবে। ভোটে যে বিজয়ী হবে, সে-ই মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।’

বিএনপি নেতা ও নাসিক নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ভোটারদের সমর্থন আমার সঙ্গে আছে। ইনশাআল্লাহ, ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে। ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হেনে, সিটি করপোরেশন বেশি ট্যাক্স নেয়, বারবার এসব কথা বলে আমার বিরুদ্ধে নানা কথা বলা হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে বলে জানান আইভী। 

আইভী বলেন, ‘নির্বাচন মানেই চ্যালেঞ্জ। আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছি। আমি আমার সব ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। এখনও কিছু উন্নয়ন করা বাকি আছে। আমার এই ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলার মাঠ, পার্ক নেই। আমি নির্বাচিত হলে মানুষের এসব সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। আমার কোনো ভয় নেই। ২০১১ সালেই শঙ্কা প্রকাশ করিনি, এখন কেন শঙ্কা প্রকাশ করব!’ 

ইভিএমের বিষয়ে আইভী বলেন, ‘আমার বিরোধী প্রার্থীরা এটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও আমি শঙ্কা প্রকাশ করছি না। কারণ ২০১১ সালের নাসিক নির্বাচনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল, তখন সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছিল। আশা করি, এবারের নির্বাচনও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

এসময় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক কালো টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করব, এসব বিষয়ে সজাগ থাকার। গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে যেন নজর রাখে।’

গণসংযোগের সময় নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইভী। 

তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করেছেন। জনগণ তাকে আবারও মূল্যায়ন করবে। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।

আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘যেসব কাজ চলমান ছিল, সেগুলো শেষ করব। এছাড়া মানুষের চাহিদা মোতাবেক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব সময়ই মানুষের চাহিদা মোতাবেক কাজ করেছি। সেটি ২৭টি ওয়ার্ডে ঘুরে দেখলেই এর প্রমাণ পাবেন। আগামীতে খেলার মাঠ, পুকুর, খাল নিয়ে কাজ করব। বিশেষ করে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করব।’

এই সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, প্রচার সম্পাদক তাজিম বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধান, নাসিক নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফুল হক হাসান, নজরুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।