কার্ল মার্ক্স-এর পুরো নাম কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স। একজন প্রভাবশালী জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও মার্কসবাদের প্রবক্তা। বিংশ শতাব্দীতে সমগ্র মানবসভ্যতা মার্ক্সের তত্ত্ব দ্বারা প্রবলভাবে আলোড়িত হয়। জীবিত অবস্থায় সেভাবে পরিচিত না হলেও মৃত্যুর পর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মার্ক্স।
কার্ল মার্ক্স প্রুশিয়া সাম্রাজ্যের নিম্ন রাইন প্রদেশের অন্তর্গত ট্রিয়ের নামক স্থানে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে ইউনিভার্সিটি অব বন-এ আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন মার্ক্স। তার ইচ্ছা ছিল সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে পড়া, কিন্তু তার বাবা তাকে বার্লিনের Humboldt-University তে বদলি করিয়ে দেন। এ সময়ই তরুণ হেগেলিয়ানদের নাস্তিকতাবাদ গ্রহণ করেন মার্কস। ১৮৪১ লাভ করা তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল 'প্রকৃতি সম্বন্ধে দেমোক্রিতোসীয় ও এপিকুরোসীয় দর্শনের মধ্যে পার্থক্য।'
১৮৪৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে মার্ক্স প্যারিসে আসেন। সে সময় ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস প্যারিসে গিয়েছিলেন মার্কসকে ১৮৪৪ সালের বাস্তবতায় ইংল্যান্ডে কর্মজীবী মানুষের অবস্থা অবহিত করতে। এর আগে ১৮৪২ সালে মার্ক্সের সাথে এঙ্গেলসের এ নিয়ে কথা হয়েছিল। সে পরিচয়ের ভিত্তিতেই এঙ্গেলস এ ধরনের উদ্যোগ নেন। এভাবেই ১৮৪৪ সালের ২৮ অক্টোবর মার্ক্স ও এঙ্গেলস প্যারিসে তাদের বন্ধুত্ব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা ঘটান। এটা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধুত্বের একটি।
১৮৪৫ সালে প্যারিস থেকে কার্ল মার্ক্সসহ সব বিপ্লবীকে বহিস্কার করা হয়। তিনি এঙ্গেলসের সাথে ব্রাসেলস চলে যান। এখানেই ঐতিহাসিক বস্তুবাদকে সম্পূর্ণ করার জন্য ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৪৫ সালে তার 'দ্য জার্মান আইডিওলজি'-তে বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির স্বভাব-প্রকৃতি তাদের উৎপাদন নির্ধারণকারী বস্তুর শর্তের ওপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমেই উৎপাদনের নকশা প্রণয়ন করেন এবং শিল্পকেন্দ্র্রিক পুঁজিবাদের পতন ও তার বদলে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
১৮৪৯ সালের মে মাসে কার্ল মার্ক্স লন্ডনে যান এবং ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৮৫৭ সালে ৮০০ পৃষ্ঠার একটি পা ুলিপির কাজ শেষ করেন। এই পা ুলিপিটি ১৯৪১ সালে 'রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনার সাধারণ পরিচিতি' নামে প্রকাশিত হয়। ১৮৬৭ সালে তিন খে প্রকাশিত হয় কার্ল মার্ক্সের বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ 'ডাস কাপিটাল'।
১৮৪৩ সালের ১৯ জুন মার্ক্স প্রুশীয় ব্যারনের শিক্ষিত কন্যা জেনি ফন ভেস্টফালেনকে বিয়ে করেছিলেন। ১৮৮১ সালের ডিসেম্বরে জেনি মারা যাওয়ার পর মার্ক্স এক ধরনের সর্দি-প্রদাহে আক্রান্ত হন। এই রোগ তাকে জীবনের শেষ ১৫ মাস অসুস্থ করে রাখে। এই রোগ পরে ব্রঙ্কাইটিসে পরিণত হয়। এ কারণেই ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় মার্ক্সের কোনো জাতীয়তা বা দেশ ছিল না, তাকে ১৭ মার্চ লন্ডনের হাইগেট সেমিটারিতে সমাহিত করা হয়। তার সমাধি ফলকে দুটি বাক্য লেখা আছে। প্রথমে লেখা, কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর শেষ লাইন- 'দুনিয়ার মজদুর এক হও'। আর অন্য উক্তিটি 'এতদিন দার্শনিকরা কেবল বিশ্বকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাই করে গেছেন, কিন্তু আসল কাজ হলো তা পরিবর্তন করা।'
প্রশ্ন
১। মার্ক্সের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় কী ছিল?
২। কোন দার্শনিকের মতবাদে আলোড়িত হয়ে কার্ল মার্ক্স ফয়ারবাখের বস্তুবাদ ত্যাগ করেছিলেন?
৩। মার্ক্স কোন পত্রিকার স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন?
কুইজ ৪০-এর উত্তর
১। ১৯৬১ সাল।
২। প্রবন্ধ গ্রন্থ।
৩। আদমজী পুরস্কার।

কুইজ ৪০-এর জয়ী
আবু মুহাম্মাদ
মধুপুর, টাঙ্গাইল

আব্দুল্লাহ সাকি আদনান
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১১ জানুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

বিষয় : কার্ল মার্ক্স জার্মান সমাজবিজ্ঞানী

মন্তব্য করুন