জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে গণবিক্ষোভে সরকার পতনের পর কাজাখাস্তানে সহিংসতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

দেশটির প্রধান শহর আলমাতিতে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গায় বহু বিক্ষুব্ধ জনতা প্রাণ হারিয়েছেন; সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮ জনের প্রাণ গেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষকে।

আলমাতির পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিক্ষুব্ধরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুজন সদস্যের শিরচ্ছেদ করেছে।

কাজাখস্তানে বিদ্রোহ দমন করতে রাশিয়া ইতোমধ্যেই সেনা সদস্য পাঠিয়েছে কাজাখাস্তানে। তবে দেশটিতে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

দেশটিতে গত শনিবার এলপিজির দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়। এরপর দিনদেশটির পশ্চিমাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ মানজিস্তাউয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ আলমাতিসহ দেশটির অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জেরে চলমান বিক্ষোভে বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আসকার মমিনের সরকার পদত্যাগ করে। 

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাতজুড়ে উত্তরাঞ্চলীয় শ্যাঙ্কেন্ট এবং তারাজ শহরেও বিক্ষোভ চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতের সময় কাজাখাস্তানের রাষ্ট্রপতির একটি বাসভবন ও মেয়রের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। পরে বাসভবন ও সেখানে থাকা গাড়িগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

গত শনিবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ আলমাতির বিমানবন্দর দখল করেছিল। পরে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিয়েছে। 

রাশান বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনভর আলমাতির প্রধান কেন্দ্রস্থলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। দিনভর থেকে থেকে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হয়েছে। শহরের রাস্তায় নিহতদের মরদেহ পড়ে আছে।

স্বাধীনতা অর্জনের ৩০ বছরের মধ্যে তেল ও ইউরেনিয়াম উৎপাদনে অর্থনীতি চাঙ্গা করে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখাস্তান। কিন্তু হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় দেশটিতে বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে চরম সহিংসতায়।

বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের শীর্ষ ক্ষেত্র তেঙ্গিজে তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তেলক্ষেত্রটির পরিচালক প্রতিষ্ঠান শেভরন বলছে, দেশব্যাপী বিক্ষোভে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তাই তেলের দাম ১ শতাংশের কিছুটা বেড়েছে। ইউরেনিয়ামের দামও কিছুটা বেড়েছে।

সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রিপটোগ্রাফি ব্লকচেইন ব্যাহত হয়, যাতে বিট কয়েন গ্রাহকরাও অসন্তুষ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে কাজাখাস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন,  বিদ্রোহ দমনে তিনিই মস্কো থেকে সেনা সদস্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দেশজুড়ে সহিংস পরিস্থিতির জন্য তিনি ‘বিদেশি-প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করে বলেন, ‘তারাই আমার প্রাসাদে আগুন দিয়েছে। পুলিশের অস্ত্র জব্দ করছে। এটি আদতে আমাদের নাগরিকদের ওপরই আক্রমণ।’

কাজাখাস্তানের মিত্র মস্কো বলছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তারা তোকায়েভকে সমর্থন দেবে।

তবে মস্কো কতজন সৈন্য পাঠাচ্ছে তা প্রকাশ করেনি এবং বৃহস্পতিবারের দাঙ্গা-হাঙ্গামার সঙ্গে জড়িত বিদেশি চক্রটি কারা সে সম্পর্কে কিছু্ বলেনি। 

তবে প্রাক্তন সোভিয়েত জোটের একজন নেতা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আনুমানিক আড়াই হাজার সেনাসদস্য কাজাখাস্তানে পাঠিয়েছে মস্কো। প্রয়োজনে তা আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

কাজাখাস্তানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘আমাদের কাছে সেই মোতায়েনের বিষয়ে প্রশ্ন আছে কারণ কাজাখস্তান, কাজাখস্তান সরকারের... নিজস্ব সম্পদ রয়েছে, এবং সরকার সুদৃঢ় এবং সুরক্ষিত রয়েছে। আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং কাজাখ প্রতিষ্ঠানগুলি দখল করার জন্য বিদেশী বাহিনীর পক্ষ থেকে যেকোনো প্রচেষ্টা বা পদক্ষেপের বিষয়ে নজর রাখব।’