আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মামলাজট কমানো এখন বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষুণি এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে ভবিষ্যতে তা আরও জটিল হয়ে দাঁড়াবে। এ জন্য মামলাজট কমাতে যা যা প্রয়োজন তার সবই অনুসরণ করতে সরকার সচেষ্ট হয়েছে।

রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তেন এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদের ৪৩ ও ৪৪ তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের মামলার জট কমাতে পৃথিবীতে যেসব পদ্ধতি আছে, যা যা অনুসরণ করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।

হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যখনই মনে করবেন তখনই হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকরা হলেন বিচার বিভাগের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই ইনস্টিটিউটে এখন একইসঙ্গে দুটি ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে ৭০ জন অংশ নিতে পেরেছেন। প্রধানমনন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।

বিচারকদের উদ্দেশে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের জন্য জেলায় জেলায় সুউচ্চ অবকাঠামো নির্মাণ করছে; বিচারকদের দেশীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও ভারতে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে; নজিরবিহীনভাবে বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে। গাড়ি সুবিধা প্রদান করেছে। এসব কিছু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সময়মত ন্যায়বিচার প্রদান করা ও জনগণের প্রত্যাশা মেটানো।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তব্য রাখেন।