জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় সরকার ছাড়া এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

'নাসিক নির্বাচনে কিশোর গ্যাংদের উত্থান, গড ফাদার কারা? সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগরে কিশোর গ্যাং খ্যাত সস্ত্রাসীদের কর্তৃক জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমটির নির্বাহী সদস্য মোসা. মোরশেদা বেগম এবং তার পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে' এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'যদি শেখ মুজিবকে সম্মান করতে চান এবং বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করতে চান তাহলে আজকে উচিত হবে একটা জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করা করা। জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত করে যে অনাচারগুলো হচ্ছে, সেগুলোর পরিবর্তন করা। কারণ জাতীয় সরকার ছাড়া এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। জাতীয় সরকার ছাড়া এখানে কোনক্রমেই নির্বাচন গণতান্ত্রিক হবে না এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।'

তিনি বলেন, আজকে আইন অনুসারে বা বিচার অনুসারে মোহাম্মদ ইমান আলীর চিফ জাস্টিস হওয়ার কথা। তিনি আইন মেনে চলতেন। তিনি আপনাদের (সরকার) কথা এবং আপনাদের হুকুম নাও মানতে পারেন। তাই তাকে আপনারা দেন নাই। তিনি ছুটিতে গেছেন। কিন্তু তারও উচিত ছিল পদত্যাগ করা।

তিনি আরও বলেন, 'মাননীয় রাষ্ট্রপতি আপনাকেও এসবের জবাব দিতে হবে। আপনার কাঁধে বন্দুক রেখে শেখ হাসিনা ফায়ার করছেন। মনে করবেন না যে, বিচারটা কেবল এই প্রধানমন্ত্রীর হবে। আপনারও বিচার হবে। এই অনাচারের বিচার হবে। সংলাপের নামে রাষ্ট্রপতি অর্থের অপচয় করছেন। আপনার কিছুই করার ক্ষমতা নাই।'

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনার আমলে বড় ব্যর্থতা গণতন্ত্র কবরে গেছে। ভোট হয় না। লোকে ভোট দিতে পারে না। আপনার অবস্থা এতো খারাপ যে, পশ্চিম দিগন্তে আপনার বিরুদ্ধে ডঙ্কা বাজতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) উন্নয়নের কথা বলেছেন। যে কাজ করা যেতো ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকায়, সেটা ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছেন! সর্বোচ্চ অনাচার আর দুর্নীতি। আজকে বোধ হয় আপনার বোঝার সময় এসেছে— আপনার পদত্যাগ করা উচিত। এসব জায়গায় আপনার বোন শেখ রেহানাকে যুক্ত করুন। আপনি শেখ রেহানাকে কোনো কাজই দিচ্ছেন না। এটা দিয়ে দেন। অনন্ত তাকে মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব দেন। তাকে কাজ শিখতে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, রাশিয়া টিকার জন্য আহ্বান করেছিল মাত্র ৭ ডলার। কিন্তু আপনারা কিনেছেন ১৪ ডলার দিয়ে। কত দিয়ে কিনছেন সংসদকে আপনি জানান নাই। সংসদকে অপমান করেছেন। এসবের জন্য মনে হয়, আপনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আপনার বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। আপনি বিশ্রাম নেন, রেহানাকে দায়িত্ব দেন। তাছাড়া আপনি বরং একটা কাজ করতে পারেন— যে গণতন্ত্র আপনার সময়ে কবরে গেছে, তাকে কবর থেকে উঠিয়ে আনেন। আপনি বরং সেই দায়িত্বটা নেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিএনপির বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিন্তু উনারা (বিএনপি নেতারা) একবারও বললেন না, উনারা যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট উঠিয়ে দেবেন। উনাদের (বিএনপি) ঘোষণা দেওয়া উচিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রত্যাহার হবে, জনগণ যে মানবাধিকার বঞ্চিত হচ্ছে, সেই অধিকার দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। 

বিএনপি নেতাদেরকে উদ্দেশ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কী কী পরিবর্তন করবেন, সেই ঘোষণা দেন। কারণ আপনারা একা কিছুই করতে পারবেন না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামুন। আপনাদের চরম ব্যর্থতা আজকেও খালেদা জিয়াকে...। আমি হাইকোর্টের সামনে দিয়ে আসলাম, আপনাদের ১০ হাজার লোককেও সেখানে বসে থাকতে দেখলাম না!

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।