দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই বিধিনিষেধের আওতার মধ্যে রয়েছে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাছাড়া গণপরিবহন বা লঞ্চ-বাস-ট্রেন চলবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে। উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ থাকবে। 

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরোপিত বিধিনিষেধের কঠোর প্রয়োগ চান বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, আগে জারি করা বিধিনিষেধ ও লকডাউনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। সেগুলো শুধু আদেশ জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাই কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। সুতরাং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জারি করা বিধিনিষেধ কার্যকরে সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, সরকার আরোপিত বিধিনিষেধের কঠোর প্রয়োগ না হলে তা কোনো কাজে আসবে না। শুধু আদেশ জারির মধ্যে যাতে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জনগণকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ভালোভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। মানুষ এই বিধিনিষেধ মানছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। মোট কথা, জারি করা বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে পারলে তা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। এটি বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। এটি শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একার কাজ নয়। এর সঙ্গে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ অতীতে এসব বিষয়ে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এবারও তেমন যেন না ঘটে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।