করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কবে থেকে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন শুরু হবে তা শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। মঙ্গলবার রেল ভবনে এক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘কবে থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন শুরু হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে শিগগির তা জানিয়ে দেব। 


তিনি বলেন, ট্রেনে ১৩ জানুয়ারির অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ওই দিন থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে না।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম স্টেশনের কাছে রেলওয়ের জমিতে শপিং মল, হোটেল কাম রেস্ট হাউস এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে মঙ্গলবার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে। রেলওয়ের পক্ষে আহসান জাবের এবং এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক আনোয়ার হোসেন এই চুক্তিতে সই করেন।


এর আগে করোনা সংক্রমণ রোধে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেকসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। 


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণায় সভায় এই ১১ দফা নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত হয়।


নির্দেশনাগুলো হলো- দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে আবশ্যিক মাস্ক ব্যবহার। বেস্তোরাঁয় খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে টিকা সনদ প্রদর্শন, ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া। 


স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিক টিকা সনদ থাকা, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক করোনা টিকা সনদ প্রদর্শন। স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামগণের সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা, করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করা। উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ রাখা।