বরেণ্য শিল্পী মাহমুদুল হক আর নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকসহ নানা শারীরিক সমস্যাও ছিল মাহমুদুল হকের। তার মৃত্যুর তথ্য ছেলে শাহাদাত হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

মাহমুদুল হক ১৯৪৫ সালে বাগেরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিল্পকলার সঙ্গে তার পরিচয় হয় পাঠ্যপুস্তকের চিত্রের মাধ্যমে, যার মধ্যে অনেকগুলো প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কাজী আবুল কাসেম করেছিলেন।

মাহমুদুল হক ঢাকায় সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৬৮ সালে স্নাতক শেষ করেন। শিক্ষক মোহাম্মদ কিবরিয়া ছিলেন তার কাজের মূল প্রভাব ও অনুপ্রেরণা। ১৯৮৪ সালে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিন্ট মেকিংয়ে চার বছরের স্নাতকোত্তর শেষ করেন মাহমুদুল হক। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতাও করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে তিনি তৎকালীন চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হন এবং ২০০৪ সালে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রকলার পুরস্কার, সুচিউরা সিটি, জাপান (১৯৮২), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯২), অনারেবল মেনশন অ্যাওয়ার্ড, এশিয়ান আর্ট বিয়েনাল (১৯৯১ থেকে ১৯৯৭), ললিতকলা একাডেমি পুরস্কার, ভারত (১৯৯৪), ১২তম কুয়েত ইন্টারন্যাশনাল বিয়েনাল অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৬) এবং এসএম সুলতান পদক (২০০৬) পেয়েছেন।