মো. শাহ আলমের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের বিচ্ছেদের পর মেয়ে মিথিলা খাতুন থাকে মায়ের সঙ্গে। মিথিলা নতুন স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। ভর্তির জন্য তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি প্রয়োজন। কিন্তু সেটি না পাওয়ায় মিথিলার ভর্তি আটকে গেছে বলে মরিয়মের অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে মরিয়ম তার মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে মরিয়ম-মিথিলার আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কয়েকজন গিয়ে মা-মেয়েকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এদিন দুপুরে বিজয়নগর থানায় পৌঁছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন মরিয়ম।

মরিয়ম যখন তার মেয়ে মিথিলাকে সঙ্গে নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে বসেন, তার দুটি ব্যানারে দাবি লেখা ছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মিথিলার স্কুলে ভর্তির জন্য বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি হস্তান্তর, বাবার কর্মস্থলে শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা ও ভরণপোষণ।

মরিয়মের বাড়ি নাটোরে। ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট শাহ আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১১ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

মরিয়ম বলেন, বিচ্ছেদের পর আদালতের রায় অনুযায়ী, শাহ আলম তাকে মোহরানার ৯০ হাজার টাকা দিয়েছেন। মেয়ে মিথিলা তার সঙ্গে থাকছে। মেয়ের জন্য মাসে এক হাজার টাকা দেন শাহ আলম। কিন্তু এই টাকায় মেয়ের পড়ালেখাসহ অন্য খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

মরিয়মের অভিযোগ, শাহ আলম আদালতে অসচ্ছলতার কাগজ দেখিয়ে মেয়েকে কম টাকা দিচ্ছেন। অন্যদিকে এখন মেয়েকে নাটোরের সিংড়ার সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়েছেন। কারণ, ভর্তির জন্য মেয়ের বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রয়োজন। কিন্তু মেয়ের বাবা শাহ আলমকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি তা দিতে চাইছেন না। ফলে তিনি মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। এ কারণেই মেয়েকে নিয়ে তিনি আমরণ অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন।