বাসের ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়েই বাস চালাতে বলা হয়েছে। অর্ধেক সিট খালি রাখায় বাসের ভাড়া বাড়বে কিনা সেই বিষয়ে আলোচনা করতে এই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। 

এদিকে পরিবহন মালিকরা আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে রাজি নন। তারা আসনের সমান সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে চান। অর্ধেক আসন খালি রেখে বাস চালাতে মালিকরা সরকারের কাছে ভর্তুকি চেয়েছেন। আর তাদের সমান সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর দাবি বিবেচনার জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ।

বুধবার বিকেলে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী শনিবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বলে জানানো হয়। প্রসঙ্গত, আগেরবার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার কারণে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বেড়েছিল। মাস দুই আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বাস ভাড়া বেড়েছে। 

আগেরবার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার শর্ত মানতে মালিকরা বাসভাড়া ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। পরে মন্ত্রণালয় ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছিল। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সমকালকে বলেছিলেন, 'ভাড়া কত বাড়াতে হবে- এমন কোনো প্রস্তাব মালিকরা দেবেন না। অর্ধেক সিট খালি রাখলে মালিকের লোকসান হবে। আবার যাত্রীদের স্বার্থও দেখতে হবে। লোকসান পোষাতে যতটা ভাড়া না বাড়ালেই নয়, ততটা বাড়ানোর দাবি করবেন মালিকরা।'

পরিবহন মালিক সূত্র জানিয়েছিল, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে অন্তত ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি চান তারা। তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, 'স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত খোলা রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। এতে শুধু ভাড়া বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাবে- যানবাহন সঙ্কটের কারণে বাস যাত্রীবোঝাই হয়ে চলবে।'

ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মাস দুই আগে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বাসের ভাড়া ২১৫ টাকা থেকে ২৭০ টাকা হয়েছে। অর্ধেক আসন খালি রাখার কারণে মালিকদের দাবি মেনে ৫০ শতাংশ বাড়লেও ভাড়া হতো ৪০৫ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে বাস ভাড়া দ্বিগুণ হতো।

মাস দুই আগে মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাসে ভাড়া ছিল ২০ টাকা। এখন ২৬ টাকা হয়েছে। অর্ধেক বাড়লেও ভাড়া হতো ৩৯ টাকা। অর্থাৎ নগর পরিবহনে ভাড়া দুই মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে যেত।