করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে আগামী শনিবার থেকে অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চালাতে হবে। এমনকি চালক ও হেলপারের অবশ্যই করোনা টিকা নেওয়ার সনদ থাকতে হবে।

বুধবার রাতে এ দুই শর্তসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

তবে বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাকেশ ঘোষ সমকালকে বলছেন, ৯৫ ভাগ চালক-শ্রমিক এখনও টিকা নেননি। তাহলে বাস চালাবে কে? এ সিদ্ধান্তের ফলে গণপরিবহন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ হবে।

মোট আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এক্ষেত্রে অর্ধেক আসন খালি রেখে পরিবহন চালাতে চান না মালিকরা। তারা চান, যত আসন তত যাত্রী নিতে।

যাত্রীদের রোষ এড়াতে ভাড়া বাড়াতে চান না জানিয়ে মালিকরা সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, দাবি না মানলে পরিবহন সংকটে যাত্রী ভোগান্তি এবং বাস চলাচল বন্ধ হতে পারে।

যদিও মালিকদের দাবিটি আমলে নিয়েছে বিআরটিএ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত সব খোলা রেখে অর্ধেক আসন খালি রেখে বাস চললে তীব্র পরিবহন সংকট হবে- এ যুক্তি তুলে ধরে তারা সরকারি নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেবে।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিআরটিএর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠকের পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার জানান, ভাড়া না বাড়িয়ে আগামী শনিবার থেকে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলবে। তবে মালিকদের দাবি যৌক্তিক। তাই আসন অর্ধেক খালি রাখার শর্ত শিথিল করতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।

এরমধ্যেই বুধবার রাতে টিকার শর্ত, আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়। বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এ আদেশে বলা হয়েছে, চালক, শ্রমিক, যাত্রী, টিকিট কাউন্টারের কর্মীসহ সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। সবার জন্য স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাত্রার শুরুতে ও শেষে বাস জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যাত্রী ওঠা-নামার সময় সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনের কারণে ২৫ মার্চ থেকে ৬৮ দিন গণপরিবহন বন্ধ ছিল। এরপর ওই বছরের ১ জুন অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে বাস চালু করা হয়। তখন ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।

ডিজেলের দাম বাড়ায় দুই মাস আগে বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

বুধবারের বৈঠকে মালিকরা বলেন, অর্ধেক আসন খালি রাখলে আবার ভাড়া বাড়াতে হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় অসম্ভব। তাই অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা বদল না হলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, পরিবহন সংকটের বিষয়ে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। তাই দাবি এসেছে অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত শিথিল করার। বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সরকারকে বাস্তবতা জানানো হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের রোষানলে পড়তে চাই না। মালিকরা অনেক ছাড় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, লকডাউনের সময় তিন মাস গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। এরপরও মালিকরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। ভাড়া না বাড়িয়েই বাস চালাতে চান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, তিনি যেন মালিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করেন। দাবি বিবেচনা করলে ভালো। এছাড়া চালক-শ্রমিকদের শতভাগ টিকার ব্যবস্থা না হলে তারা গাড়ি চালাতে পারবেন না।

এ বক্তব্য গাড়ি বন্ধের হুমকি কি-না, এ প্রশ্নে রাঙ্গা বলেন, মালিকরা ধর্মঘট করতে চান না। সব স্বাভাবিক রাখতে চান।