তিনি ওঝা হয়ে ঝেড়েছেন, আবার সর্প হয়ে দংশন করেছেন। রপ্তানিকারক সেজে বিদেশে পণ্য পাঠিয়েছেন, আবার আমদানিকারক সেজে সেই পণ্য নিজেই কিনেছেন। হাকিম সেজে হুকুম করেছেন, তবে পুলিশ সাজার আগে আসল পুলিশ এসে পড়েছে। এমনটি ঘটেছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নাজমুল আবেদীনের ক্ষেত্রে। এভাবে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। তবে তাকে ধরতে পারেনি। তিনি সপরিবারের যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন।
যারা দেশ থেকে টাকা পাচার করেন তারা নানা কৌশল নেন। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে কখনও টাকা পাচার করেন আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে (দাম কম দেখিয়ে), কখনও ওভার ইনভয়েসিংয়ের (দাম বেশি দেখিয়ে) নামে। আবার কেউ পাচার করেন হুন্ডির মাধ্যমে। তবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নাজমুল আবেদীন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানা ছিল নাজমুল আবেদীনের। দেশ থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক দুবাইয়ে রপ্তানি করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকের কাছে টাকা নিতেন তিনি। কিন্তু পরে দেখা যায়, দুবাইয়ে যে প্রতিষ্ঠানকে ক্রেতা হিসেবে দেখানো হয়েছিল সেটির মালিকও নাজমুল। এভাবে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক সেজে অন্তত ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার পাচার করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ কোটি টাকা। নাজমুলের এই চক্রে আছেন তার স্ত্রী সোহেলা আবেদীন এবং শ্বশুর এ কে এম জাহিদ হোসেন।
চক্রটির অর্থ পাচার-সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি সমকালের হাতে এসেছে। ওই নথি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, বাণিজ্যের আড়ালে শুধু অর্থ পাচার নয়, চারটি বেসরকারি ব্যাংকের কাছে তাদের অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ ৩২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনা করেই ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের জন্য পাচার করেছেন নাজমুল। এরপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা তালাবদ্ধ করে পরিবারের সব সদস্য নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পাশাপাশি নাজমুলের ব্রিটিশ পাসপোর্ট আছে। চারটি ব্যাংকই নাজমুল ও তার পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
দুবাইয়ে নাজমুলের সেই প্রতিষ্ঠানের নাম 'আল মুতাফাওয়েক রেডিমেড গার্মেন্টস ট্রেডিং লিমিটেড (এআরজিটিএল)'। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির মানি লন্ডারিং ইউনিটের তদন্তে উঠে এসেছে, দুবাইয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এআরজিটিএলের যে ঠিকানা নাজমুল ব্যবহার করেছেন সেটি একটি ছোট্ট দোকানের মতো ছিল। বর্তমানে সেখানে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। রপ্তানি মূল্য ও ব্যাংক ঋণের অর্থ লোপাটের পর প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়। কাগজে-কলমে দুই বছরের মতো এর স্থায়িত্ব পাওয়া গেছে।
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক তথ্য বিশ্নেষণ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট করপোরেশন। তারাও বাংলাদেশকে জানিয়েছে, এআরজিটিএলের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাংকার জানান, প্রতিটি ব্যাংকের সঙ্গে শুরুতে কিছু দিন ঠিকঠাক লেনদেন করে আস্থা অর্জন করেন নাজমুল। এক সময় ইপিজেডে তিনটি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনেক ব্যাংক তার সঙ্গে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক ছিল।
যেভাবে জালিয়াতি :মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার নথিপত্র বলছে, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নাজমুল আবেদীন তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এ অ্যান্ড বি আউটারওয়্যার থেকে ৭টি বিক্রয় আদেশের বিপরীতে ১০ দশমিক ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমানের ৭টি রপ্তানি আদেশ ইস্যু করার আবেদন করেন। তিনি ব্যাংককে জানান, তার পণ্য কিনছে দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠান এআরজিটিএল। পণ্য রপ্তানির আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হবে কমর্শিয়াল ব্যাংক অব দুবাইয়ের মাধ্যমে। ব্যাংককে নাজমুল নিশ্চয়তা দেন, রপ্তানি আদেশ ইস্যু করার পর পণ্য শিপমেন্ট হলে অল্প সময়ের মধ্যে রপ্তানিমূল্য দেশে প্রত্যাবাসিত হবে। এরপর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর পণ্য দুবাইয়ে পাঠানো হয়। ঠিকঠাক মতো সব পণ্য জাহাজে দুবাইয়ে পাঠানোর পর ব্যাংকের কাছে রপ্তানি-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেয় এ অ্যান্ড বি আউটারওয়্যার। রপ্তানির ৫ মাস পর ২০১৯ সালের ১২ মার্চ একটি রপ্তানি বিলের মূল্য বাবদ ২.০৫ লাখ ডলার প্রত্যাবাসন করেন নাজমুল। বাকি ৬টি বিলের মূল্য বাবদ ৮ দশমিক ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দেননি।
একইভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার মাধ্যমে ২০১৮ সালে দুটি বিক্রয় আদেশের বিপরীতে দুবাইয়ের ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ দশমিক ৩৯ লাখ ডলার মূল্যমানের পণ্য বিক্রি করে এ অ্যান্ড বি আউটারওয়্যার। পরবর্তী সময়ে দেড় লাখ মার্কিন ডলার প্রত্যাবাসন হলেও বাকি ৩.৪৮ লাখ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়নি। এছাড়া চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ওয়ান ব্যাংকের তথ্য বলছে, নাজমুল তার আরেক প্রতিষ্ঠান নর্ম আউটফিট অ্যান্ড এক্সেসরিজ থেকে ২৯ দশমিক ৯ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য দুবাইয়ে পাঠাতে ১৯টি রপ্তানি ইস্যু করতে অনুরোধ করেন। ব্যাংক এটা ইস্যু করার পর ২০১৮ সালের ১৪, ১৬ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য দুবাই পাঠানো হয়। ওই রপ্তানিমূল্যের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ১৯ লাখ ডলার দেশে ফেরত আসে। বাকি ২৭.২৭ লাখ মার্কিন ডলার এখনও ফেরত আসেনি। এছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার মাধ্যমে ৯ দশমিক ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ৬টি রপ্তানি ইস্যু করে। ওই অর্থের মধ্যে ১ দশমিক ৭৯ লাখ ডলার দেশে এলেও বাকি ৮ দশমিক ০৯ লাখ ডলার আসেনি।
কী ঘটেছিল :পণ্য রপ্তানির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে নামে ব্যাংক। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট গ্রাহকের মনোনীত শিপিং এজেন্ট, সুইফট ফ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। শিপিং এজেন্ট ব্যাংককে জানায়, দুবাইয়ের শাহরোজ বন্দর থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এআরজিটিএল পণ্য ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। শিপিং এজেন্টের কাছ থেকে পাওয়া কাগজপত্র দেখে ব্যাংক নিশ্চিত হয়, ব্যাংকের স্বাক্ষর, সিল, পিএ নম্বর জাল করে পণ্য ছাড়িয়ে নিয়েছেন নাজমুল। অনুসন্ধানে এটাও বেরিয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাজমুল আবেদীন।
বিএফআইইউ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর তার অর্থ পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। অভিযোগের সত্যতা মেলায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক জহির রায়হান বাদী হয়ে গত ৩ জুন মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন। তদন্তেও উঠে আসে, বাণিজ্য পণ্যের আড়ালে প্রায় ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাচার হয়েছে।
ঋণ শোধ না করে লাপাত্তা :নাজমুল আবেদীন, তার স্ত্রী সোহেলা আবেদীন ও শ্বশুর এ কে এম জাহিদ হোসেনের কাছে চট্টগ্রামের ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট পাওনা ৩২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে নাজমুল ও তার স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ অ্যান্ড বি আউটরওয়্যার ব্র্যাক ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ১১৫ কোটি ৭৬ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ১১৯ কোটি ৭৪ লাখ, সোহেলা আবেদীন এবং এ কে এম জাহিদ হোসেনের নামে ওয়ান ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ৬৩ কোটি ৫৩ লাখ ও একই এলাকায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখায় ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ অপরিশোধিত রয়েছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান সমকালকে বলেন, নাজমুলকে ঋণ দিয়ে একটি বিপদে পড়ে গেছি আমরা। ইপিজেডে তার ব্যবসা ছিল। মনে করেছিলাম ভালো ব্যবসায়ী। এখন দেখি ভিন্ন চিত্র। টাকা ফেরত পেতে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করেছি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বের করে তাকে দেশে ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।
ওয়ান ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে নর্ম আউটফিট আমাদের ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণ নেয়। এটা এখন সুদসহ বেড়ে ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাউকে অনেক দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না।
চারটি ব্যাংকের কাছে নাজমুল ও তার স্ত্রী এবং শ্বশুর ঋণখেলাপি। ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। গত বছরের ১৮ আগস্ট চেক জালিয়াতির একটি মামলার রায়ে মূলহোতা নাজমুলসহ তিনজনের এক বছরের কারাদণ্ড ও পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক ও এনআরবিসি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, কারও বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ এলে শুরুতে তদন্ত হয়। প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পরই মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর চট্টগ্রামের ওই ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
সিআইডির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, পণ্যের আড়ালে নাজমুলের অর্থ পাচারের অংশটুকু তারা তদন্ত করেছেন। এতে পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত। আর ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় তদন্তের এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় সেদিকে তারা খুব বেশি মনোযোগ দেননি।
মিলেমিশে লুটপাট :নাজমুল আবেদীনকে কাছ থেকে দেখেছেন এমন একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পদের মূল্য কয়েকগুণ বেশি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নেন নাজমুল। ২০১৭ সালে ৮ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম ইপিজেডে নর্ম আউটফিট পুরোদস্তুর গৃহিণী স্ত্রী সোহেলা আবেদীন ও শ্বশুর এ কে এম জাহিদ হোসেনের নামে কিনে দেন নাজমুল। তার স্ত্রী নর্ম আউটফিট এক্সেসরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং শ্বশুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এরপর ৮ কোটি টাকার ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়ান ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্তমানে দুটি ব্যাংকের পাওনা ৯৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
নাজমুলের কারখানায় পণ্য সরবাহ করেছেন একাধিক ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীও পাবেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। অনেককে চেক দিলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এ নিয়েও একাধিক মামলা রয়েছে নাজমুলের বিরুদ্ধে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে পাস করা নাজমুল এক সময় গ্রিনলেজ ব্যাংকে চাকরি করতেন। বাড়ি খুলনায়। তবে চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের খুলসী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ১৯৯৭-৯৮ সালে চট্টগ্রামে মাল্টি সাব নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নাজমুলের ব্যবসায় হাতেখড়ি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ, অর্থ পাচার ও প্রতারণা করে জীবনের গল্প বদলে ফেলেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল যুক্তরাজ্য যান নাজমুলের স্ত্রী। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যান নাজমুল। এরপর তার শ্বশুর যান ওই বছরেরই ১৩ অক্টোবর। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে যুক্তরাজ্যে নাজমুলের দুটি ফোনে বিভিন্ন সময়ে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। দেশে অবস্থানরত তার ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিষয় : ৪১ কোটি টাকা পাচার

মন্তব্য করুন