কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) নামের একটি ছাত্রীনিবাসে ‘ভূত আতঙ্ক’ দেখা দিলে ছাত্রীদের অনুরোধে সেখানে হুজুর নিয়ে মিলাদ পড়ানো হয়েছে। 

এ ঘটনা গত সোমবারের। বিষয়টি জানাজানির পর গত বুধবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে কুসংস্কার বলে দাবি করেছেন। 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জামাল নাছের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ‘ছাত্রীদের ভয় দূর করতে ও তাদের অনুরোধে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।’  

কলেজের ছাত্রীরা জানান, কলেজের ওই হোস্টেলটি অনেক প্রাচীন ও ব্যবহার অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি ঢুকে পড়ে। সেখানে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রীর বসবাস। তবে বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রীদের মধ্যে ‘ভূত-আতঙ্ক’ বিরাজ করছে। 

ছাত্রীদের অভিযোগ, রাত হলে তারা ‘অদ্ভুত শব্দ’ শুনতে পান। এই আওয়াজ সহজে বন্ধ হয় না। এতে অনেক রাতই তাদের নির্ঘুম কাটাতে হয়। 

পরে বিষয়টি ছাত্রীরা কলেজ অধ্যক্ষকে জানালে গত সোমবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হুজুর ডেকে হোস্টেলে মিলাদ পড়ানো হয়। 

তাছলিমা ও রুমি আক্তার নামের দুই ছাত্রী বলেন, ‘রাত গভীর হলে আমাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেকেই ভয়ে হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। পরে আমরা বেশ কয়েকজন বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে জানাই। হোস্টেলে ভূত না থাকলে এমনটি হওয়ার কথা না।’ 

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জামাল নাছের বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে আবাসিক ছাত্রীরা হোস্টেলে ভূত রয়েছে বলে তাকে জানায়। তাদের মনের ভয় দূর করতে পরিস্থিতি বিবেচনায় মিলাদের আয়োজন করা হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এটা মেয়েদের মনের ভুল। হয়ত গভীর রাতে পাশে বিড়াল কান্নাকাটি করায় মেয়েদের মনে ভূতের আতঙ্ক দেখা দেয়। হোস্টেলে কোনো ভূতের অস্থিত্ব নেই।’