শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ওই হলের ছাত্রীরা। এছাড়া শুক্রবার বিকেলে প্রভোস্টের রুমে তালা ঝুলিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে দাবি মানা না হলে সন্ধ্যায় আল্টিমেটাম শেষে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা সমকালকে জানান, দুপুর দুইটার পর থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নেবেন। সন্ধ্যার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে তখন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক জোবেদা কনক খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, আগের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা হয়নি। কিন্তু উনি অসুস্থ, করোনায় আক্রান্ত। এজন্য ছুটিতে আছেন। তার অনুপস্থিতিতে সহযোগী অধ্যাপক জোবেদা কনক খানকে ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, উনি প্রভোস্ট বডির সদস্য ছিলেন। আর আমাদের দাবি ছিল প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগ  করতে হবে এবং নতুন দায়িত্বশীল প্রভোস্ট দিতে হবে।

অন্যদিকে শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসে। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলন শুরু করেন। তারা বলেন, আমাদের তিন দফা দাবি ছিলো। দাবিগুলো হলো; প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগ করতে হবে, দ্রুত দায়িত্বশীল নতুন প্রভোস্ট কমিটি নিয়োগ দিতে হবে এবং হলের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করতে হবে।

তারা বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার সময় উনি হলের সিট, ওয়াইফাই, পানি এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কথা বললেও আমাদের প্রথম দাবি প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগ নিয়ে তেমন কিছু বলেননি। আর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যাকে দেওয়া হয়েছে, তিনি প্রভোস্ট বডির একজন সদস্য।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে হলের সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা রিডিং রুমে বসে আলোচনা করেন এবং সমস্যার কথাগুলো প্রভোস্টকে বলার জন্য হলে আসার অনুরোধ জানান। তখন প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা অসুস্থতার কথা জানালে ছাত্রীরা প্রভোস্ট বডির একজন সদস্যকে অল্প সময়ের জন্য হলে আসার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি জরুরি বলে উল্লেখ করলে প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এরপরে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার রাত দুইটা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন।