দুর্নীতি মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণকে অভিযুক্ত হলেও দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। দুদকের তদন্তে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেলেও তারা কোনো দুর্নীতি করেননি বলে আবেদনে দাবি করা হয়। হাইকোর্টে মামলাটি কোয়াশ (বাতিল) করার জন্য করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ কারণে সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালত মামলার প্রথম সাক্ষ্য না নিয়ে সাক্ষ্য স্থগিত করেন। মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায়ও ওসি প্রদীপ আসামি। গত ১৫ ডিসেম্বর আদালত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।

দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ সমকালকে বলেন, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পেয়েছে দুদক। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। এখন আসামিপক্ষ আজ এ মামলাটি হাইকোর্টে কোয়াশ করার জন্য আবেদন করেছেন জানিয়ে সাক্ষ্য বন্ধ রাখার আবেদন করেন। আদালত সাক্ষ্য না নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ফের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য করেছেন। প্রথম সাক্ষী দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির ছিলেন।

প্রদীপের আইনজীবী রতন চক্রবর্তী বলেন, আসামি প্রদীপের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। পিটিশন হাইকোর্টে অপেক্ষমাণ রয়েছে। যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত করেন।

২০২১ সালের ২৬ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিটের ওপর শুনানি হয়। দুদক কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ২৯ জুন চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ তদারকির জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ দেন। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের তাদের সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশও দেন।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদি হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রদীপের স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। দুদকের দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি কার, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া গেছে। চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী বলে দাবি করলেও তার এমন কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মামলায় ২৯ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।