কাগজে কলমে বিপিএলে এবার শক্তিশালী দল গড়েছে ফরচুন বরিশাল। এবারের শিরোপার অন্যতম দাবিদার তারা। এই দলে আছেন কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার, যারা সারা বছরই বিশ্বের সব প্রান্তে টি-টোয়েন্টির ফেরি করে বেড়ান।

প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে দলে নিয়েছে বরিশাল। ডিরেক্ট সাইনিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও শ্রীলঙ্কার দানুশকা গুনাথিলাকাকে দলে টেনেছে দলটি। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার দানুশকা বিপিএলের অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় দলটিতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন টি-টোয়েন্টির আরেক তারকা ডোয়াইন ব্রাভো। 

প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে বরিশালের দলে এসেছে কাজী নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসানের মত জাতীয় দলের তারকারা। এছাড়াও বরিশালে ঠাই পেয়েছেন মেহেদী হাসান রানা, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, তৌহিদ হৃদয়, জিয়াউর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সৈকত আলী, সানজামুল ইসলাম, সালমান হোসেন ইমন ও ইরফান শুক্কুর।

বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্লেয়ার্স ড্রাফটে স্কোয়াডে ডাক পান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওবেদ ম্যাককয় ও আলজারি জোসেফ এবং শ্রীলঙ্কার নিরোশান ডিকওয়েলা (ছাড়পত্র না পাওয়ায় খেলতে পারবেন না)। ড্রাফটের পর মুনিম শাহরিয়ার ও ইংলিশ চায়নাম্যান জ্যাকব বেনেডিক্ট লিন্টটকে দলে নিয়েছে বরিশাল।

কাগজে কলমে বরিশালের দল দারুণ ভারসাম্য হলেও দলটির ব্যাটিং নিয়ে আছে দুশ্চিন্তা। টি-টোয়েন্টির বড় তারকা গেইল তার সেরা সময় ফেলে এসেছেন। অনেকদিন ধরেই সেই বিস্ফোরক ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না ক্যারিবির এই ব্যাটিং দানবকে। 

বরিশালের দলের ভারসাম্য গড়ে দিতে এটুকুই যথেষ্ট। তবু ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা থাকছেই। সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংটা ভাবাবে বরিশালকে। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাট হাতে সাফল্যের দেখা নেই সাকিবের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের সর্বশেষ অর্ধশতক ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। ব্রাভোও ঠিক আগের ফর্মে নেই। 

বরিশালের মূল দায়িত্ব থাকতে পারে স্থানীয় তিন তরুণ ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন, মুনিম শাহরিয়ার ও নুরুল হাসানের ওপর। তিনজনই সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে ভালো করেছেন। আবাহনীর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মুনিম ১৪ ম্যাচে ১৪৩.৭২ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৩৫৫ রান। আবাহনীরই তিন-চারে নেমে ১৬ ম্যাচে নাজমুলের ৩৬৮ রান দলের ব্যাটিংয়ের সুর বেঁধে দিয়েছে। আর প্রায় ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ১৬ ম্যাচে শেখ জামালের অধিনায়ক নুরুলের ৩৮৯ রান তো টুর্নামেন্টেরই তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও বরিশালের মূল শক্তি হতে পারে বোলিং। সাকিবের চার ওভারে যেকোন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। এছাড়া মুজিব ও ব্রাভোর বোলিং বাংলাদেশের কন্ডিশনের জন্য আদর্শ। দারুণ ফর্মে আছেন মেহেদী হাসান ও শফিকুর ইসলাম। অফ স্পিনার হিসেবে নাঈম হাসান একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। সৈকত আলীও থাকবেন দৌড়ে।

বরিশালের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদের বড় শ্বস্তি দলে সাকিব থাকা। তিনি জানান, 'যে দলে সাকিব আল হাসান আছে, সেই দলে কাজ করা তো সব সময়ই সহজ। আমি আর সাকিব ঢাকার (ঢাকা ডায়নামাইটস) হয়ে চার বছর কাজ করেছি। আমার আর সাকিবের রসায়ন সব সময়ই ভালো।'

এবার বরিশালের কোচ হিসেবে থাকছেন বিসিবি পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। সহকারী কোচ দুই সাবেক ক্রিকেটার ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ও আশিকুর রহমান মজুমদার। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন দেশের খ্যাতিমান কোচ নাজমুল আবেদীন।

এক নজরে বরিশাল স্কোয়াড:

দেশি ক্রিকেটার: 

সাকিব আল হাসান (আইকন), নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান রানা, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, তৌহিদ হৃদয়, জিয়াউর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সৈকত আলি, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, সালমান হোসেন, ইরফান শুক্কুর ও মুনিম শাহরিয়ার।

বিদেশি ক্রিকেটার: 

মুজিব উর রহমান, ক্রিস গেইল, আলজারি জোসেফ, ডোয়াইন ব্রাভো, জেইক লিন্টট।