ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাঈদা গাফ্‌ফারকে একাই হত্যা করে বলে তথ্য দিয়েছে তার বাড়ি নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করা আনারুল ইসলাম। গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে তার শ্বাসরোধ করে। তিন দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার সে এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি জোনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) আবু সায়েম নয়ন।
সমকালকে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কিনা, সে বিষয়ে আনারুলের কাছ থেকে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আনারুল দাবি করেছে, অধ্যাপক সাঈদার কাছে থাকা ব্যাগে ১০ হাজার টাকা ছিল। সেই লোভ সামলাতে না পেরেই তাকে হত্যা করে।
এসিপি নয়ন জানান, অধ্যাপক সাঈদাকে হত্যার জন্য আনারুল কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি। গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার মরদেহ ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যায়।
আনারুলের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে আজ। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতকে সে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে বলে মনে করছে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান জানান, আদালতের আদেশের পর রোববার থেকে আনারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার দক্ষিণ পানিশাইল এলাকা থেকে অধ্যাপক সাঈদা গাফ্‌ফারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় তিনি ভাড়া বাসায় থেকে তার নির্মাণাধীন বাড়ির খোঁজখবর রাখছিলেন। সেই কাজ দেখাশোনার জন্য রেখেছিলেন আনারুলকে।
আনারুলকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলার সাদুল্যাপুর থানার বুজর্গ জামালপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে সে।
এ ঘটনায় নিহত সাঈদার ছেলে সাউদ ইফতেখার বিন জহির বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।


বিষয় : অধ্যাপক সাঈদা খুন

মন্তব্য করুন