শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনের মতো সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সোমবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গোল চত্বর এলাকায় একত্রিত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রী হলের দিকে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে ছাত্রীরাও যোগ দেন।

সোমবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। 

শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি ক্যাম্পাসের গেট থেকে জলকামান এবং পুলিশ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। 

এদিকে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে জানান, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, বুকে গুলি লেগেছে, এই মুহূর্তে এই উপাচার্যের পদত্যাগই আমাদের একমাত্র দাবি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা গণস্বাক্ষর নিয়েছি এবং রাষ্ট্রপতি বরাবর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে চিঠি পোস্ট করবো। চিঠি পাঠানো শেষে আমরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব। 

তারা আরও জানান, উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তখন শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারাও।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। তাদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্যের পদত্যাগ।

উল্লেখ্য, বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন শুরু হয়। সেখানে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পর সোমবার দুপুর বারোটার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হলে তালা ঝুলিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।