‘ম্যাডাম বাঁচার জন্য খুব চেষ্টা করেছিলেন। তার নাক ও মুখ চেপে ধরলে তিনি আমার হাতে কামড় দেন। ম্যাডামকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করতে আমার সময় লাগে আট থেকে ১০ মিনিট। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত বুঝে তার দু’পায়ে ধরে টেনেহিঁচড়ে রাস্তার পাশের ঝোঁপে ফেলে দিই।’ 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাঈদা গাফ্ফারকে নির্মমভাবে হত্যার এমন বর্ণনাই দিয়েছেন আনারুল ইসলাম। তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অধ্যাপক সাঈদা হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর গত ১৫ জানুয়ারি ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে তোলা হয় আনারুলকে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী পাভেল সুইট তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার তাকে ফের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর-অপরাধ) জাকির হাসান।

জবানবন্দিতে আনারুল বলেন, ‘ম্যাডামের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটি পেছন থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সেটি নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ম্যাডামকে তার সঙ্গে থাকা চাদর দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরি। এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে নাক ও মুখ দু’হাতে চেপে ধরি। এ সময় বাঁচার জন্য ম্যাডাম খুব চেষ্টা করেন। আমার ডান হাতে কামড়ও দেন; কিন্তু একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হতে ৮-১০ মিনিট লাগে।’

গাজীপুরের কোনাবাড়ী জোনের দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) আবুসায়েম নয়ন জানান, একাই অধ্যাপক সাঈদাকে হত্যা করেছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন আনারুল। সে অধ্যাপক সাঈদার ব্যাগে থাকা টাকার বান্ডেল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে প্রথমে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার দক্ষিণ পানিশাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন অধ্যাপক সাঈদা। গত ১২ জানুয়ারি তিনি নির্মাণাধীন বাড়ির কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মেয়ে সাহিদা আফরিন কাশিমপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৪ জানুয়ারি পানিশাইল এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নির্মাণাধীন বাড়িটি দেখভাল করত গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের বুজর্গ জামালপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে আনারুল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।