করোনা সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় ঢাকা ও রাঙ্গামাটির পর আরও ১০ জেলাকে উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চল ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত এক সপ্তাহের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জেলাগুলোকে তারা উচ্চ, মাঝারি ও স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ভাগ করে যথাক্রমে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, লালমনিরহাট, গাজীপুর, পঞ্চগড় ও খাগড়াছড়ি। করোনা সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় রেড তালিকাভুক্ত এই জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার গড়ে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ। এর মধ্যে চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত এক সপ্তাহে ঢাকায় ৬২ হাজার ২১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ হাজার ৪৩৭ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাতে শনাক্তের হার দাঁড়াচ্ছে ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ। এ কারণে ঢাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সারাদেশে ৮ হাজার ৪০৭ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৭ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের ৭৮ শতাংশের বেশি।

এদিকে মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে ৩১ জেলা এবং বাকি জেলাগুলো স্বল্প ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝারি ঝুঁকির জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার গড়ে ৫  থেকে ৯ শতাংশ। আর যেসব জেলায় শনাক্ত ৫ শতাংশের কম, সেগুলো স্বল্প ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।   

সেই হিসাবে মাঝারি ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো- শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, ফেনী, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিলেট, নাটোর, কক্সবাজার, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, বরিশাল, মাগুরা, জয়পুরহাট, ঝালকাঠি, নোয়াখালী, পটুয়ালী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, বাগেরহাট, শরীয়পুর ও নড়াইল। 

আর স্বল্প ঝুঁকির তালিকায় থাকা জেলাগুলো হলো- কুমিল্লা, চাঁদপুর, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, ভোলা, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী ও মেহেরপুর। 

এদিকে বান্দরবান জেলায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ হলেও একে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়নি, কারণ এ জেলায় খুব কম সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্তের এই হার পাওয়া গেছে।