কেশবপুরের কাটাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্তত ২০ ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বখাটেদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার ব্রহ্ম থানায় মামলা করেছেন। রাতেই পুলিশ ২ বখাটেকে আটক করেছে। তারা হলো উপজেলার পাঁজিয়া গ্রামের এখলাছ উদ্দিন ও খায়রুল ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক মলয় কুমার ব্রহ্ম জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মঙ্গলবার ৭৮ ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। টিকা দেওয়া শেষে বিকেলে বাসে স্কুলে ফেরার পথে কেশবপুর-কলাগাছি সড়কের পাঁজিয়া এলাকায় বখাটেদের সঙ্গে বাসচালকের কথা কাটাকাটি হয়। পরে ৭-৮ বখাটে বাস আটকে চালককে পিটুনি দেয়। শিক্ষকরা ওই সময় বাধা দিলে বখাটেরা তাদের ও ছাত্রীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলার সময় অনেক ছাত্রী ভয়ে গাড়িতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
তিনি আরও জানান, বখাটেদের হামলায় বিদ্যালয়ের জুই বিশ্বাস, ইয়াসমিন, প্রিয়া মণ্ডল, সাথী বাইন, সিনথিয়া খাতুন, রুবাইয়া খাতুন, শ্রাবণী মণ্ডল, তহমিনা খাতুনসহ ২০ ছাত্রী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে জুইয়ের ডান পা ভেঙে গেছে। তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন বাসে থাকা তিন শিক্ষক উজ্জ্বল বৈরাগী, মহেন্দ্রনাথ বাইন ও রাখি ঢালী। এ ছাড়া হামলার সময় পাঁজিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ লিয়াকত আলী ঠেকাতে গেলে তাকেও মারধর করে বখাটেরা।
আহত লিয়াকত আলী জানান, বখাটেদের হাত থেকে ছাত্রীদের রক্ষা করতে গেলে বখাটেরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। পড়ে গিয়ে তার বাম পা কেটে গেছে।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দীন বলেন, ছাত্রীদের মারধরের ঘটনায় মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।