গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে জনজীবন, সমাজ ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি বিতরণ কোম্পানিগুলো এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পৃথকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুসারে, আবাসিক গ্যাসের দাম দুই চুলার মাসিক বিল হবে দুই হাজার ১০০ টাকা, যা বর্তমানে ৯৭৫ টাকা। এবং এক চুলার বিল হবে দুই হাজার টাকা, যা বর্তমানে ৯০০ টাকা। এছাড়া শিল্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম বর্তমানে ১০.৭০ টাকা, যা বাড়িয়ে ২৩.৮৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের গ্যাস শিল্প কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তার দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০ টাকা, যা বর্তমানে ১৩.৮৫ টাকা।

তারা বলেন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয়ক্ষেত্রে গ্রাহকের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমান কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এমনিতেই সাধারণ মানুষ নিদারুণ অর্থ কষ্টে জীবন পার করছে।

তারা আরও বলেন, করোনা মহামারিতে কাজ হারিয়ে অনেক মানুষের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠছে। সমাজ অর্থনীতির সব পর্যায়ে অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র বিদ্যমান। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া উৎপাদন-বণ্টনসহ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা, সিস্টেম লস ও দুর্নীতি দূর করার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া জনবিরোধী এবং আমরা সরকারকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি

বিবৃতিদাতারা হলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সারওয়ার আলী, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদ বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব ড. নুর মুহাম্মদ তালুকদার, খুশী কবির, রোকেয়া কবীর, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, অধ্যাপক এমএম আকাশ, এএসএম সবুর, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সালেহ আহমেদ, ডা. লেনিন চৌধুরী, জাহেদুল বারী, অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, আবদুল ওয়াহেদ, আলোক দাস গুপ্ত, ড. সে বসিত, সানোয়ার হোসেন সামসী, এ কে আজাদ ও গৌতম শীল।